আজ বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬           আমাদের কথা    যোগাযোগ
Owner

শিরোনাম

  জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল কপোতাক্ষ নিউজের জন্য বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহী প্রার্থীরা ০১৭১৯২৮০৮২৭ নাম্বারে যোগাযোগ করুন।  

স্কুল-কলেজে হাজিরার সময় "জয় বাংলা" বলার যৌক্তিকতা


স্কুল-কলেজে হাজিরার সময় "জয় বাংলা" বলার যৌক্তিকতা

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ৩, ২০১৯   পঠিতঃ 207333


"জয় বাংলা" স্লোগানটি মূলত রাজনৈতিক স্লোগান হিসাবে ব্যবহার হয়ে আসছে। তবে “জয় বাংলা” এমন একটি তীব্র, সংহত ও তাৎপর্যপূর্ণ স্লোগান, যাতে একটি পদেই প্রকাশ পেয়েছে রাজনীতি, সংস্কৃতি, দেশ, ভাষার সৌন্দর্য ও জাতীয় আবেগ।

কম বয়স থেকেই বা স্কুল ও কলেজে পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের মনে এই সকল চেতনা প্রসারিত করতে বাঙালী জাতির জাতীয় স্লোগান "জয় বাংলা" হাজিরা দেওয়ার সময় ‘ইয়েস স্যার’ অথবা ‘প্রেজেন্ট স্যার’ বলার পরিবর্তে করা যেতে পারে।

মুক্তিযুদ্ধকালীন বাঙালির প্রেরণার উৎস মনের ভিতরে গেঁথে গেলে এবং কি কারণে এই স্লোগান দেওয়া হয় এটি জানতে পারলে শিশুকাল থেকেই তারা হয়ে উঠবে দেশপ্রেমী।

ফিরে যায় একটু পিছনে, বাঙ্গালীর রক্তে আগুন ধরানো স্লোগান এর উৎপত্তিস্থলে। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯৬৯ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর শিক্ষা দিবস পালন উপলক্ষে সেপ্টম্বরের ১৫ তারিখ থেকেই তিন দিনব্যাপী কর্মসূচী হাতে নেওয়া হয়েছিল। ১৫ তারিখ সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতির মঞ্চ মধুর ক্যান্টিনে সাধারণ ছাত্র সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সভা চলাকালীন একপর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আফতাব উদ্দিন আহমদ চিৎকার করে স্লোগান দিয়ে উঠেন ‘জয় বাংলা’ বলে। ঘটনার আকস্মিকতার রেশ কাটিয়ে উঠে ইকবাল হলের আরেক শিক্ষার্থী চিশতি শাহ হেলালুর রহমানও চিৎকার দিয়ে উঠেন ‘জয় বাংলা’ বলে। মধুর ক্যান্টিনে বসে আকস্মিকভাবে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে উঠা এই ছাত্ররা হয়তো নিজেরাও জানতো না এই স্লোগান পাকিস্তানের ভিত্তিমূল ভেঙ্গে জন্ম দেবে স্বাধীন বাংলাদেশের।

১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারী জেল থেকে মুক্তি পাওয়া শেখ মুজিবুর রহমানকে রেসকোর্স ময়দানে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করা হয়। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের কন্ঠ থেকে যে পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু উপাধির জন্ম হয়েছিল, ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের জন্মও হলো সেই অগ্নিগর্ভ থেকেই।

১৫ সেপ্টেম্বরের সেই জয় বাংলা ধীরে ধীরে ছাত্রনেতাদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে থাকে। মিটিং শেষে অভিবাদন ধ্বনি হিসেবেই ব্যবহার হতে থাকে এটি। ১৯৭০ সালের ১১ জানুয়ারী পল্টন ময়দানে আওয়ামী লীগের এক জনসভায় মঞ্চের সামনে টানিয়ে দেওয়া হয় জয় বাংলা খচিত ব্যানার। শিল্পী কামাল আহমেদের ডিজাইন করা সেই ব্যানার থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এই অগ্নিস্ফুলিংগ। প্রধান বক্তা হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন সেই মঞ্চে। সেখানে দাঁড়িয়েই তৎকালীন জনপ্রিয় ছাত্রনেতা সিরাজুল আলম খান বেশ কয়েকবার এই স্লোগান দিয়েছিলেন এবং উপস্থিত সাধারণ মানুষ অনেক স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতে সাড়া দেয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে জন্ম নেওয়া জয় বাংলা স্লোগান এলাকায় দ্রুত জনপ্রিয় হতে থাকে। ৭ জুন ঢাকার রেসকোর্স মাঠে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল পরবর্তী জনসভার ভাষণেই প্রথমবার শেখ মুজিবুর রহমান মঞ্চ থেকে এই স্লোগানটি উচ্চারণ করেন।তবে তখনো আওয়ামী লীগ নেতারা জনসভায় এই স্লোগান তেমন উচ্চারণ করতেন না। কারণ ‘জিয়ে সিন্ধ’ স্লোগান দিয়ে ইতোমধ্যেই সিন্ধুর জাতীয়তাবাদী নেতা জি এম সৈয়দের উপরে পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর অগ্নিদৃষ্টি পড়েছিল।

১৯৭০ সালের জাতীয় পরিষদের ভোটগ্রহণ ৭ ডিসেম্বর এবং প্রাদেশিক পরিষদের জন্য ১৯ ডিসেম্বর দিন ধার্য করা হয়। ভোটের রায়ে আওয়ামী লীগের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রতিষ্ঠিত হয়। একাত্তরের তিন জানুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে আয়োজিত এক জনসভায় ‘জয় বাংলা, জয় পাকিস্তান’ বলে বক্তব্য শেষ করেন শেখ মুজিব। এর আগের এক জনসভায় বক্তব্য শেষ করে জয় সিন্ধু, জয় পাঞ্জাব, জয় সীমান্ত প্রদেশ, জয় পাকিস্তান বলে সবার শেষে  বলেন জয় বাংলা। রেসকোর্স ময়দানের জনসভার পরের দিন চার জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সভার শুরুতেই স্লোগান উঠে বীর বাঙ্গালী অস্ত্র ধরো/বাংলাদেশ স্বাধীন করো, লাল সূর্য উঠেছে/বীর জনতা জেগেছে। ছাত্রজনতার স্লোগান ও স্লোগানগুলো মন দিয়ে শুনে প্রধান অতিথি শেখ মুজিব বক্তৃতায় দাঁড়ালেন। বক্তৃতা শেষ করলেন শুধু ‘জয় বাংলা’ দিয়েই। ‘জয় পাকিস্তান’ শব্দটি সেদিন বাদ দিয়ে দিয়েছিলেন। এরপর কোনো ভাষণেই তিনি সেটি উচ্চারণ করেননি।

৩ মার্চ পল্টনে ছাত্র পরিষদের সভার জন্য স্বাধীন বাংলাদেশের ঘোষণা এবং কর্মসূচী আকারে একটি ইশতেহার তৈরি করা হয়। এই ইশতেহারের শিরোনাম দেওয়া হয় ‘জয় বাংলা- ইশতেহার নং এক’। পল্টন ময়দানে শেখ মুজিবের উপস্থিতিতে সেই জয় বাংলার ইশতেহার পাঠ করেন শাজাহান সিরাজ। জয় বাংলা স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হতে থাকে সারা পল্টন। শেখ মুজিবুর রহমান জানান তিনি ৭ তারিখেই তার যাবতীয় সিদ্ধান্ত জানাবেন।

৭ মার্চের উনিশ মিনিটের ভাষণে বাঙ্গালীর শোষণের যাতাকল ভেঙ্গে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানালেন। ডাক দিলেন ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তোলার। যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকার উদাত্ত আহ্বান জানালেন। জনতার অগ্নিগর্ভের সামনে দাঁঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার ভাষণ শেষ করলেন জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে। রেসকোর্স ময়দান থেকে উঠা এই রণধ্বনি অব্যাহত ছিল মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস ধরে। এই স্লোগান বুকে ধরেই মুক্তিসংগ্রামে লড়ে গেছে বাঙ্গালীরা। জয় বাংলা নামের এই সাধারণ একটি স্লোগান বুকে ধরে স্বাধীনতাকামী বাঙ্গালীরা কাঁপিয়ে দিয়েছে পাকিস্তানের ভিত্তি, সত্যি করেছে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন।

সত্তরের নির্বাচনে স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদের পক্ষ থেকে ছাপানো এক প্রচারপত্রের শেষে জয় বাংলা স্লোগান নিয়ে একটি বাণী লেখা ছিল। বাণীটিতেই ফুটে উঠেছে কত আবেগ, কত ভালোবাসা আর ত্যাগের প্রস্তুতি জড়িয়ে ছিল এই স্লোগানের সাথে।

শত প্রতিবন্ধকতা, লোভ-লালসা, আত্মকলহ, দ্বিধা-দ্বন্দ্ব দূর করে এগিয়ে যেতে হবে। মনে রাখতে হবে, ‘জয় বাংলাআমাদের ধ্যানধারণা, ‘জয় বাংলাকেবল একটি স্লোগান নয়, ‘জয় বাংলাএকটি আদর্শ। জয় বাংলাআমাদের মূল উৎস। জয় বাংলাআমাদের চলার শেষ প্রান্ত। জয় বাংলা।” (অক্টোবর ১৯৭০)

সম্প্রতি ভারতের গুজরাটের বিদ্যালয়ে 'ইয়েস স্যার' এর বদলে 'জয় হিন্দ' বলার ঘোষণা আসার পর বাংলাদেশেও সব স্কুল কলেজে হাজিরা দেয়ার সময় ‘ইয়েস স্যার’ বা ‘ইয়েস ম্যাডাম’ বলার পরিবর্তে ‘জয় বাংলা’ করতে কর্তৃপক্ষের কাছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে ইতিমধ্যে আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ।

আবারো স্মরণ করিয়ে দিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে জন্ম নিয়েছিল “জয় বাংলা” স্লোগান। দেশের সরকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে, সেখানে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড নামে স্বীকৃতি  পাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে সেসময়ে বিশেষ অবদান রেখেছিল। এশিয়ার সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় স্থান পাওয়া দেশের সর্ব প্রাচীন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যদি “জয় বাংলা” স্লোগান ব্যবহার করতে পারে, তবে জীবনের শুরু থেকে কেন নয়?

আমার লেখা “স্কুল বা কলেজে হাজিরা দেওয়ার সময় ইয়েস স্যারঅথবা প্রেজেন্ট স্যারবলার পরিবর্তে এবার "জয় বাংলা" করা হোক” উক্তিটির পক্ষে ও বিপক্ষে বিভিন্ন ব্যক্তির মন্তব্য করেছেন। এবারের এই লেখার বিষয়বস্তু একটু ভেবে গঠনমূলক মন্তব্য আশা করছি সকলের কাছে।

হয়তো আমার এই ক্ষুদ্র লেখাটি পড়ে থাকবে টাইমলাইনে। তবে যদি হয় সম্ভব, শেয়ার করিয়েন “পাগলের প্রলাপ” হিসাবে।

------------------------------------------
কামরুজ্জামান রাজু
বার্তা সম্পাদক
কপোতাক্ষ নিউজ

কামরুজ্জামান রাজু /


মন্তব্য করুন

ইতিহাসের বড় মানবাধিকার লঙ্ঘন বঙ্গবন্ধুর খুনিদের রক্ষা করা

মহেশপুরের অবৈধ ইটভাটায় পুড়ছে শত শত মণ কাঠ

জাল বিছানো হয়েছে, কখন কে ধরা পড়ে বলা মুশকিল: কাদের

নাটোরে মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা

নাটোরের সিংড়ায় পানিতে ডুবে দুই শিশু মূত্যু

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ "জোছনা উৎসব" বরগুনায়

নাটোরে বাউয়েট ক্যাম্পাসে দরিদ্র ও শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ

রুহুল আমিন মোহাম্মদ ফারুকী এর কবিতা "উত্তরহীন প্রশ্ন"

কাল থেকে শুরু ‘বঙ্গবন্ধু বিপিএল’ লড়াই

রুম্পার মৃত্যুরহস্য উদঘাটনে এখনও অন্ধকারেই পুলিশ

যাদের নিয়ে আওয়ামী লীগ বিব্রত

সুপ্রিয় ভট্টাচার্য্য যশোরের শ্রেষ্ঠ করদাতা

কালীগঞ্জে সুপারি গাছ থেকে পড়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে সিয়াম!

কারাগার থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এহসান হাবিব সুমন এর খোলা চিঠি

যেকোন সময় ঘোষণা হতে পারে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি

এসএসসি পরীক্ষাঃ বাংলা দ্বিতীয় পত্রে বেশি নম্বর সহজেই...

৫০ বছর ধরে দল করেও সুবিধা বঞ্চিত আ'লীগের প্রচার সম্পাদক নূরুল হক

যশোরের রাজগঞ্জে ৫৬ যুবকের উদ্যোগে ভাসমান সেতু র্নিমাণ

কেশবপুরের শাহীনের সেই ভ্যানটি উদ্ধার, আটক তিনজন

নোংরা রাজনীতির শিকার যশোরের এমপি স্বপনের ছেলে শুভ

লালমনিরহাটে এক বিধবা মা বাইসাইকেল চালিয়ে ৪২ বছর স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন

নারী সহকারীর সঙ্গে ডিসির অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল, সংবাদ না করার অনুরোধ

আমি চাই আমাকে দেখে আর দশটা মেয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হোক - শ্রাবন্তী অনন্যা

বিএনপি নেতা আবু বকর আবু’র জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল

আপনার কাছে জনপ্রিয় খেলা কোনটা ?

  ক্রিকেট

  ফুটবল

  ভলিবল

  কাবাডি

অফিস ঠিকানা  

আর এল পোল্ট্রি, উপজেলা রোড, কেশবপুর বাজার, যশোর।
মোবাইলঃ   ০১৭১৯২৮০৮২৭
ইমেইলঃ   info@kopotakkhonews24.com

প্রকাশক ও সম্পাদক 

মোঃ মাহাবুবুর রহমান (মাহাবুর)

মোবাইলঃ   ০১৭১৯২৮০৮২৭
ইমেইলঃ   info@kopotakkhonews24.com

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা