আজ সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬           আমাদের কথা    যোগাযোগ
Owner

শিরোনাম

  জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল কপোতাক্ষ নিউজের জন্য বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহী প্রার্থীরা ০১৭১৯২৮০৮২৭ নাম্বারে যোগাযোগ করুন।  

শিক্ষার মান উন্নয়নে স্কুলে আনন্দময় পাঠদানের বিকল্প নেই


শিক্ষার মান উন্নয়নে স্কুলে আনন্দময় পাঠদানের বিকল্প নেই

প্রকাশিতঃ রবিবার, ফেব্রুয়ারী ১৭, ২০১৯   পঠিতঃ 128331


এম. এ. আলিম খান: ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক বলে মনে হচ্ছে। এসডিজি’র ১৭টি গোলের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গোল হল-৪ অর্থাৎ মানসম্মত শিক্ষা। এই গোলটি অর্জন ছাড়া অন্য কোন অর্জন সম্ভব নয়। আমরা বিগত কয়েক বছর ধরে দেখেছি শিক্ষার কাঙ্খিত মান অর্জিত হচ্ছে না। এর অন্যতম কারণ কোচিং বাণিজ্য এবং শিক্ষকদের আন্তরিক ও আনন্দময় পাঠদানের অভাব। 

নৈতিক মূল্যবোধ বর্জিত কিছু শিক্ষক ও অতি মুনাফা লোভী অসাধু ব্যক্তিদের কারণে কোচিং বাণিজ্য বিস্তার লাভ করেছে। কোচিং বাণিজ্য শহর থেকে শুরু হলেও এখন তা ভাইরাসের মত ছড়িয়ে পড়েছে প্রত্যন্ত গ্রামে। ২০১৫ সালে গণসাক্ষরতা অভিযানের এক জরিপে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৮৬ শতাংশ শিক্ষার্থী কোচিং করে।’ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০১৬ সালের সমীক্ষায় দেখা গেছে, শিক্ষার পিছনে একজন অভিভাবকের মোট আয়ের ৫.৪২ শতাংশ ব্যয় হয়। শিক্ষার পেছনে মোট ব্যয়ের সবচেয়ে বড় খাত কোচিং যার পরিমাণ ৩০ শতাংশ। 

২০১১ সালে শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্যে অতিষ্ঠ হয়ে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের অভিভাবক মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউল কবির দুলু উচ্চ আদালতে একটি রিট করেছিলেন। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কোচিং বাণিজ্য বন্ধে ২০১২ সালে একটি নীতিমালা করে। উল্লেখ্য ২০১২ সালের ২০ জুন নীতিমালা জারি করা হলেও এতদিন তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়নি। ৬ বছর পরে গত ২৪ জানুয়ারি ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২’ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। 

কোচিং বাণিজ্য বন্ধের নীতিমালায় বলা হয়েছে, দেশের সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এক শ্রেণির শিক্ষক বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কোচিং পরিচালনা করে আসছেন। এটি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যা পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে এবং এ ব্যয় নির্বাহে অভিভাবকগণ হিমশিম খাচ্ছেন। এছাড়া অনেক শিক্ষক শ্রেণি কক্ষে পাঠদানে মনোযোগী না হয়ে কোচিং এ বেশি সময় ব্যয় করছেন। এক্ষেত্রে দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীরা এবং অভিভাবকগণ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি কোচিং বন্ধে সরকারের করা নীতিমালা বৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে এখন থেকে স্কুলের শিক্ষকরা আর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বাণিজ্যিক কোচিং করাতে পারবেন না। এখন প্রশ্ন দেখা গিয়েছে, শিক্ষার্থীরা কেন স্কুলমুখী না হয়ে কোচিং মুখী হচ্ছে? শিক্ষাবিদরা বিষয়টি নিয়ে গবেষণা ও বিশ্লেষণ করছেন। আমাদের সংবিধানে শিক্ষাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। সেই মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। মহামান্য আদালত বলেছেন, ‘কোচিং বাণিজ্যের প্রধান কারণ হল শিক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটি।’ 

বিশে^র সেরা শিক্ষা ব্যবস্থার দেশ ফিনল্যান্ড। সেখানে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত কোন শিক্ষার্থীকে পাবলিক পরীক্ষা দিতে হয় না। আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের তুলনামূলক বেশি পাবলিক পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়। শিক্ষাবিদ ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেছেন, ‘অকারণে ৫ম ও ৮ম শ্রেণিতে দুইটি পাবলিক পরীক্ষা বোঝা হিসেবে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। যেটা আমাদের শিক্ষা নীতিতে উল্লেখ নেই।’ বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা শিক্ষার্থী নয়, পরীক্ষার্থী তৈরি করছে। ফলে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ার মধ্যে আনন্দ খুঁজে পায় না। 

বাংলাদেশে শিক্ষার নি¤œমানের অন্যতম কারণ হলো মেধাবী শিক্ষার্থীরা এই পেশায় তেমন আসে না। একথা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই যে, বাংলাদেশের শিক্ষকদের আর্থিক সম্মান ও সামাজিক মর্যাদা দুটোই কম। অনেকেই আছেন যারা অন্য কোন চাকরি না পেয়ে অনেকটা বাধ্য হয়েই এ পেশায় আসেন। ২০১০ সালে প্রণীত শিক্ষানীতিতে বলা হয়েছিল শিক্ষা খাতে পর্যায়ক্রমে বাজেট বাড়িয়ে ২০১৮ সালে ৪ শতাংশ করা হবে। কিন্তু তা করা হয়নি, বর্তমানে শিক্ষা খাতে বাজেট ২.১ শতাংশ।  নেপাল, শ্রীলংকা, ভারত ও পাকিস্তানের চেয়েও বাংলাদেশে শিক্ষা খাতে বাজেট কম।

শিক্ষাব্যবস্থায় দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, সিঙ্গাপুর টপে রয়েছে। কিন্তু এই দেশগুলোতে মাধ্যমিক পর্যায়ে কোচিং ব্যবস্থা যেমন প্রকট তেমনি আত্নহত্যার হারও উদ্বেগজনক। সুতরাং বুঝা যায় কোচিং শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। কোচিং হল স্কুলের সম্পূরক, কখনোই স্কুলের বিকল্প হতে পারে না। কিন্তু কোন কোন ক্ষেত্রে দেখা যায় স্কুল গৌণ ও কোচিং সেন্টার মূখ্য হয়ে উঠেছে। অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা স্কুলে নয়, কোচিং সেন্টারে নিয়মিত ক্লাস করে। আর পাবলিক পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীরা স্কুল বন্ধ করে নিয়মিত কোচিং করে। 

শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার যে চাহিদা তা স্কুল কলেজের শিক্ষকরা পূরণ করতে পারলে শিক্ষার্থীদের কোচিং সেন্টারমুখী হতে হবে না। পাশাপাশি শিক্ষকরা যদি সম্মানজনক বেতন এবং সামাজিক মর্যাদা না পায় তাহলে তারা বিকল্প কর্মসংস্থান বা কোচিং নির্ভর হয়ে পড়বে। আমাদের স্কুল কলেজে আনন্দময় পাঠদান নিশ্চিত করতে পারলে শিক্ষার্থীরা কোচিং মুখী কম হবে। মেধাবীদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। যে সব শিক্ষকদের দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে তাদেরকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দক্ষতা বাড়াতে হবে। বাংলাদেশ বিশে^ একটি সুশিক্ষিত উন্নত জাতি হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াবে এ প্রত্যশা সবার। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হতে হলে মানসম্মত শিক্ষা ও দক্ষ জন শক্তির কোন বিকল্প নেই। 

লেখক: বেসরকারি সংস্থা ভাব বাংলাদেশ শিক্ষা প্রোগ্রামের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার

এম. এ. আলিম খান / ইসরাফিল হোসেন


মন্তব্য করুন

একজন মুক্তিযোদ্ধার খোলা চিঠি: স্বাধীন মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ

দেশের জন্য কখন কী প্রয়োজন, ভালোভাবে জানি: প্রধানমন্ত্রী

গাজীপুরে ফ্যান ফ্যাক্টরিতে আগুন : ১০ জনের মৃত্যু

বাংলাদেশের স্বর্ণোজ্জ্বল অধ্যায়ের রচনা শেখ হাসিনার পক্ষেই সম্ভব হয়েছে -গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী

কান ধরে ওঠবোসে স্মৃতিশক্তি বাড়ে

কেশবপুরের হেলথ কেয়ার হসপিটালের ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

দালালদের মাধ্যমে বাংলাদেশে কিছু অনুপ্রবেশ ঘটছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রাতে ভোট ম্যানেজকারীদের বেতন বাড়ছে, মিলছে বাড়ি-গাড়ি: সরোয়ার

বৃদ্ধ মহসিনের সর্বস্ব কেড়ে নিয়েছে সন্তানরা

দেশের রক্ত চুষছে দুর্নীতিবাজরা: হাইকোর্ট

স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী ১০ হাজার ৭৮৯ রাজাকারের তালিকা প্রকাশ

প্রধানমন্ত্রীর পাশে রাজাকার আছে, নাম বললে দেশে ফেরা বন্ধ হয়ে যাবে : গাফফার চৌধুরী

কালীগঞ্জে সুপারি গাছ থেকে পড়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে সিয়াম!

কারাগার থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এহসান হাবিব সুমন এর খোলা চিঠি

যেকোন সময় ঘোষণা হতে পারে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি

এসএসসি পরীক্ষাঃ বাংলা দ্বিতীয় পত্রে বেশি নম্বর সহজেই...

৫০ বছর ধরে দল করেও সুবিধা বঞ্চিত আ'লীগের প্রচার সম্পাদক নূরুল হক

যশোরের রাজগঞ্জে ৫৬ যুবকের উদ্যোগে ভাসমান সেতু র্নিমাণ

কেশবপুরের শাহীনের সেই ভ্যানটি উদ্ধার, আটক তিনজন

নোংরা রাজনীতির শিকার যশোরের এমপি স্বপনের ছেলে শুভ

লালমনিরহাটে এক বিধবা মা বাইসাইকেল চালিয়ে ৪২ বছর স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন

নারী সহকারীর সঙ্গে ডিসির অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল, সংবাদ না করার অনুরোধ

আমি চাই আমাকে দেখে আর দশটা মেয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হোক - শ্রাবন্তী অনন্যা

বিএনপি নেতা আবু বকর আবু’র জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল

আপনার কাছে জনপ্রিয় খেলা কোনটা ?

  ক্রিকেট

  ফুটবল

  ভলিবল

  কাবাডি

অফিস ঠিকানা  

আর এল পোল্ট্রি, উপজেলা রোড, কেশবপুর বাজার, যশোর।
মোবাইলঃ   ০১৭১৯২৮০৮২৭
ইমেইলঃ   info@kopotakkhonews24.com

প্রকাশক ও সম্পাদক 

মোঃ মাহাবুবুর রহমান (মাহাবুর)

মোবাইলঃ   ০১৭১৯২৮০৮২৭
ইমেইলঃ   info@kopotakkhonews24.com

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা