আজ রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৫ আশ্বিন ১৪২৭           আমাদের কথা    যোগাযোগ

শিরোনাম

  প্রতিনিধি হইতে ইচ্ছুকরা ০১৭৪৭৬০৪৮১৫ নাম্বারে যোগাযোগ করুন।  

পহেলা বৈশাখে ঢাকার ঐতিহ্য


পহেলা বৈশাখে ঢাকার  ঐতিহ্য

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১১, ২০১৯   পঠিতঃ 340011


মোঃ শাহ্ জালাল, ঢাকা থেকেঃ হালখাতা থেকে প্রিয় পান্তা ইলিশ আমাদের দেশে বাংলা নববর্ষের মূল উৎসব ছিল হালখাতা সেই সাথে বৈশাখী মেলা ছিল সাধারণ মানুষের সেরা ও প্রধান আকর্ষণ। সারা বছর মানুষ অপেক্ষায় থাকতেন বহু আকাংখিত প্রিয় মেলার জন্যে। দেশের অন্যান্য স্থানের মত ঢাকার ব্যাবসার জন্য প্রসিদ্ধ চকবাজার, বাদামতলী, শাঁখারীবাজার, ইসলামপুর, পাটুয়াটুলি, তাঁতীবাজার ইত্যাদি নানা স্থানে ব্যাবসায়ীরা পহেলা বৈশাখে মূলত নববর্ষের প্রারম্ভে তাঁদের পুরানো যাবতীয় হিসাব-নিকাশ সম্পন্ন করে হিসাবের নতুন খাতা খুলতেন আর এই শুভ কাজটি উৎসবমূখর পরিবেশে খদ্দরদের মিষ্টি মূখ করিয়ে শুভ সূচনা হতো। ঢাকায় এখনও আনেক স্থানে বিশেষ করে স্বর্ণের ব্যাসায়ীরা পহেলা বৈশাখে সকাল থেকেই খদ্দেরদের মিষ্টি বিতরণের মাধ্যমে নতুন বাংলা বছরের হালখাতা পালন করেন।

বৈশাখ উপলক্ষে প্রতিবছর গেন্ডারিয়ার ধুপখোলা মাঠে পহেলা বৈশাখে বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হত যা এখনও প্রতিবছর হচ্ছে। তখন খাল ছিল আর সেটিতে নৌকায় করে কুমাররা নানা ধরনের মাটির খেলনা আর নানা প্রকার হাতে বানানো দ্রব্য মেলায় বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে এসে সেই মাঠে বিক্রি করতেন। দূর দুরান্ত থেকে মানুষ এই মেলার আকর্ষণে ছুটে আসত। পহেলা বৈশাখের দিন সকাল থেকেই ছোটদের মেলার যাবার জন্য আগ্রহ আর আনন্দ-উত্তেজনা পাড়ায়-মহল্লায় উৎসবমূখর পরিবেশের সৃষ্টি করত। মেলায় নাগরদোলায় চড়ার পাশাপাশি রঙ-বেরং এর নানা প্রকার মাটির পুতুল, খেলনা হাঁড়ি-পাতিল, বাঁশি, টমটম গাড়ি, হুক্কা হাতে সাদা দাঁড়িওয়ালা বুড়া, পানির গামলায় তেল দিয়ে চলা জাহাজ, ঢোল, ডুগডুগি, মাটির তৈরি ঘোড়া, কিনে ঘরে ফেরার মধ্যে যে নির্মল আনন্দ ছিল তা বোধকরি এই প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের আনেকেরই জানা নেই। মেলা থেকে কিনে আনা মিরচিনি, মুরালী, বাতাসা, খই, ওখড়া, চিড়া, মুড়ির মোয়া, কদমা, আর ঘরে বানানো যবের ছাতু, নানা রকম পিঠাই ছিল পহেলা বৈশাখের পরম আনন্দ। তখনও পান্তা-ইলিশ খাবার ধূম পরে যায়নি যেটি এখন না হলেই নয়। ঢাকার নানা স্থানে মেলা হত আর চকবাজারের মেলা ছিল প্রসিদ্ধ। 

প্রতি বছরের মত এইবারেও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে পুরান ঢাকার রেস্তোরাগুলোতে থাকবে নানা আয়োজন বিশেষ করে পান্তা ভাতের সাথে নানা ভর্তার আয়োজন কিন্তু অবাক করা কথা হচ্ছে নববর্ষের এই দিনে শাহী খানার প্রতিও মানুষের আগ্রহের কমতি নেই তাই দেখা যায় পোলাও বিরিয়ানীর বিক্রী কোনক্রমেই বছরের অন্যান্য সময়ের থেকে কম নয় বরং বেশি বিক্রী হয়। ৪০০ বছরের অধিক পুরনো ঐতিহ্যবাহী পুরান ঢাকার আদি ঢাকাইয়া মানুষদের আতিথিয়তার সুনাম সেই আগে থেকেই সেই সাথে রয়েছে সেরা শাহী রান্নার খ্যাতি। পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার, নারিন্দা, লালবাগ, নাজিরাবাজার, নাজিমুদ্দিন রোড, আবুল হাসনাত রোড ইত্যাদি স্থানে রয়েছে নানা জনপ্রিয় ঐতিহ্যবাহী খাবারের প্রতিষ্ঠান আর আদি ঢাকার মানুষেরা এখনো খাবার-দাবারের স্বাদের বিষয়ে আপোষহীন। ঢাকার ভোজন রসিক মানুষেরা পহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশের পাশাপাশি অনেকেই শাহী মোরগ পোলাও, শাহী বিরিয়ানী, মোরগ মোসাল্লাম, শাহী টুকরা, মালাই কারী, কালা ভূনা ইত্যাদি খাবারকে বেছে নিবেন তাতে সেন্দেহ নেই। তাছাড়া আমাদের পুরান ঢাকায় সকালের নাশতা ছাড়াও যে কোন উৎসবে তাদের প্রিয় বাকরখানীর (নিমসুকা) রুটির সাথে মিষ্টি, ফিরনী বা ঝাল মাংসের সাথে পরিবেশন করাটা ঘরে ঘরে ব্যাপক জনপ্রিয়। পুরান ঢাকার অনেক স্থানেই রাস্তায় রাস্তায় বসে অস্থায়ী দই আর লেবুর শরবত বিক্রির দোকান সেই সাথে তো বিখ্যাত শরবত ও ফালুদার দোকানগুলো তো আছেই।  

গতবছর পুরান ঢাকার লালবাগে জনপ্রিয় একটি খাবার হোটেলে গিয়ে দেখা যায় পহেলা বৈশাখে তাদের পান্তা-ইলিশের আয়োজন না থাকলেও প্রতিদিনের নিয়মিত আয়োজন মোরগ পোলাও, খাসীর কাচ্চি আর খাসীর বিরিয়ানী খেতে ঢাকা সহ নানা জায়গা থেকে আসা মানুষের উপচে পরা ভীড়। 

বর্তমানে পহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশ খাওয়া একটা রীতিতে দাঁড়িয়ে গেলেও তাতে অনেক আগেই যোগ হয়েছে ফরমালিনের আতংক! সেই সাথে পহেলা বৈশাখের অনেক আগে থেকে মাছ ব্যাবাসীদের ইলিশ মাছ মজুদ করে রাখা আর পহেলা বৈশাখের আগে তা সাধারণের নাগালের বাইরে উচ্চ দামে বিক্রি করা সবার কাছেই পীড়াদায়ক। ঢাকায় পহেলা বৈশাখে অনেককেই পান্তা-ইলিশ খাবার কথা জিজ্ঞাস করলে বলেন, কয়েক গুন দাম দিয়ে এত আগে মজুদ করা ফরমালিন স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিপূর্ণ মাছ না কিনে শাহী মোরগ পোলাও, বিরিয়ানী বা তেহারীর সাথে নতুন বছর উদযাপন করাটা অনেকেই এখন পছন্দ করছেন। ব্যাবসায়িরা তাদের অতি মুনাফার কথা চিন্তা করে আমাদের স্বাস্থ্যগত বিপদের দিকে ফেলছেন আর আমাদের প্রিয় খাবারের আনন্দ থেকে বঞ্চিত করছেন।  অনেকেই ইলিশ মাছে ফরমালিনের ঝুঁকির কথা পহেলা বৈশাখের আনন্দে ভুলে গিয়ে গায়ে না মাখলেও বাজারে গিয়ে তাদের প্রিয় ইলিশের আকাশ ছোঁয়া দাম শুনে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন নিশ্চিত। তবে আশার কথা হচ্ছে প্রিয় উৎসবে আমরা বাঙালীরা ঠিকই আমাদের সমাজে সবাইকে নিয়ে মেতে উঠি অনেক বাধা আর সমস্যা ডিঙিয়ে যে যার মত আনন্দের নানা রঙ মাখিয়ে বৈশাখী সুরে।

শাহ্‌ জালাল /


মন্তব্য করুন

জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি’র অনুমোদন

নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রথম হেলিপোর্ট টার্মিনাল

বাংলাদেশ সীমান্তে বোমা নিয়ে ঘাঁটি গেড়েছে মিয়ানমার

দেশে আসা বেশিরভাগ ভারতীয় পেঁয়াজ পচা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মনোনয়নে ত্যাগীদের খুঁজছে আওয়ামী লীগ

বাংলাদেশ গ্রাম ডাক্তার কল্যাণ সমিতির মাঝে আবুল হাসানের মাক্স বিতরণ

১২ ঘণ্টার মধ্যেই বাবা-মা ও মেয়ের মৃত্যু

মসজিদে বিস্ফোরণ: তিতাসের ৮ জনের ২ দিনের রিমান্ড, আরও ২ জনের মুত্যু

এর আগে সাংবাদিককে মেরেছি, তোকে দেখে নিব

কুটির শিল্পে ক্ষতি প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা: কষ্টে আড়াই কোটি মানুষ

চালের দাম বাড়ায় বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ

বেনাপোল দিয়ে ইলিশ গেল ১৫ ট্রাক, পেঁয়াজ আসেনি একটিও!

কালীগঞ্জে সুপারি গাছ থেকে পড়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে সিয়াম!

কারাগার থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এহসান হাবিব সুমন এর খোলা চিঠি

এসএসসি পরীক্ষাঃ বাংলা দ্বিতীয় পত্রে বেশি নম্বর সহজেই...

যেকোন সময় ঘোষণা হতে পারে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি

যশোরে এবার সরকারি চালসহ ঘাতক দালাল নিমূল কমিটির নেতা আটক

৫০ বছর ধরে দল করেও সুবিধা বঞ্চিত আ'লীগের প্রচার সম্পাদক নূরুল হক

যশোরের রাজগঞ্জে ৫৬ যুবকের উদ্যোগে ভাসমান সেতু র্নিমাণ

লালমনিরহাটে এক বিধবা মা বাইসাইকেল চালিয়ে ৪২ বছর স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন

কেশবপুরের শাহীনের সেই ভ্যানটি উদ্ধার, আটক তিনজন

নোংরা রাজনীতির শিকার যশোরের এমপি স্বপনের ছেলে শুভ

ব্যাচমেট হিসেবে সাইয়েমার পক্ষে সকলের কাছে ক্ষমা চাইলেন কেশবপুরের এসিল্যাণ্ড

নারী সহকারীর সঙ্গে ডিসির অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল, সংবাদ না করার অনুরোধ

আমাদের নিউজ পোর্টাল আপনার কেমন লাগে ?

  খুব ভালো

  ভালো

  খুব ভালো না

  ভালো লাগে না

অফিস ঠিকানা  

আর এল পোল্ট্রি, উপজেলা রোড, কেশবপুর বাজার, যশোর।
মোবাইলঃ   ০১৭১৯২৮০৮২৭
ইমেইলঃ   info@kopotakkhonews24.com

প্রকাশক ও সম্পাদক 

মোঃ মাহাবুবুর রহমান (মাহাবুর)

মোবাইলঃ   ০১৭১৯২৮০৮২৭
ইমেইলঃ   info@kopotakkhonews24.com

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা