আজ শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬           আমাদের কথা    যোগাযোগ
Owner

শিরোনাম

  জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল কপোতাক্ষ নিউজের জন্য বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহী প্রার্থীরা ০১৭১৯২৮০৮২৭ নাম্বারে যোগাযোগ করুন।  

মনিরামপুরে রাজনৈতিক সংকটে ছাত্রলীগ: বেকারত্বের ভয়াবহ মাত্রা


মনিরামপুরে রাজনৈতিক সংকটে ছাত্রলীগ: বেকারত্বের ভয়াবহ মাত্রা

প্রকাশিতঃ শনিবার, সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৯   পঠিতঃ 63126


বেকারত্ব বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের স্থায়ী সমস্যা হলেও এখন তা ভয়াবহ মাত্রায় রূপ নিয়েছে যশোর জেলার মনিরামপুরে ছাত্রলীগের ভিতর। আর এই বেকারত্বের অভিশাপ সাম্প্রতিক মনিরামপুর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যাপকভাবে বেড়েছে। মনিরামপুর উপজেলার চলমান রাজনৈতিক সহিংসতার বিরূপ প্রভাব পড়েছে ছাত্রলীগের কর্মসংস্থানের উপর। একটানা ১৯৯৬ সাল থেকে বর্তমান সরকারী দলের টানা গ্রুপিং এর শিকার হতে হয়েছে ছাত্রলীগকে। শুরুটা হয়েছিল প্রয়াত নেতা খান টিপু সুলতান হটাইও আন্দোলন থেকে।

নিজেদের মধ্য গ্রুপিং হওয়ায় ছাত্রলীগ হয়েছে বিভক্ত। একপক্ষ ক্ষমতার স্বাদ পেলেও কাজে লাগাতে পারেনি, বিরোধী পক্ষকে ঠেকাতে কেটে গেছে নেতার পিছুপিছু। ওদিকে ক্ষমতাহীন অপরপক্ষ নেতার মদদপুষ্ট না হওয়ার, হয়েছে চোখের কাটা। অর্থাৎ নেতা বিভক্ত ছাত্রলীগকে করেছে ইচ্ছেমত অপব্যবহার। ফলে ক্ষতিগ্রস্থ ছাত্রলীগের মধ্যে ক্রমেই বাড়ছে বেকারত্ব। অথচ বর্তমান আওয়ামী লীগের তৃতীয় মেয়াদের ক্ষমতায় মনিরামপুরে ছাত্রলীগের কোন কর্মী ভালো অবস্থানে গেছে এমন নজির পাওয়ার যায়নি। তবে হ্যাঁ মনিরামপুর চাকরি হয়েছে একাধিক শিবির ও ছাত্রদলের নেতা কর্মীদের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। আর এই শিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের চাকরি দিতে দালালী করেছে উপজেলার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা। নিজেদের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে প্রত্যেকটি চাকুরী প্রার্থীর কাছ থেকে নিয়েছে মোটা অংকের টাকা।

উল্লেখযোগ্য মনিরামপুর সরকারি কলেজেসহ প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোথাও ছাত্রলীগের অস্তিত্ব তেমন খুঁজে পাওয়া যাবেনা চাকুরী ক্ষেত্রে। একদিকে রাজনৈতিক সংকট অপরদিকে অর্থনৈতিক সংকটে ছাত্রলীগের কর্মীরা মোটা অংকের টাকা দিতে না পারার ব্যর্থতায় আজকের ছাত্রলীগ বেকারত্বের জাতাঁকলে পিষ্ট হয়ে গেছে। 

গত প্রায় চার মাসের কাছাকাছি সময়ে মনিরামপুরের রাজনৈতিক অস্থিরতায় দিন দিন বেকারত্বের হার আগের তুলনায় দ্বিগুণ হতে চলেছে। যেহেতু রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিভিন্ন কারণে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হলেও তাতে কোন সুযোগ নেই মনিরামপুর ছাত্রলীগের। 

পরিসংখ্যান ব্যুরোর সূত্র মতে, বর্তমানে বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে প্রায় এক লাখ। এর মধ্যে ৪৫ শতাংশ চাকরি পেলেও প্রায় ৫৫ শতাংশ বেকার থাকছে কিংবা যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি পাচ্ছে না। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে বেকারত্বের হার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো ছাত্ররাজনীতি।প্রকৃতপক্ষে সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) নিয়োগপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতায় বেকারত্ব সৃষ্টি হয়। এই দীর্ঘসূত্রতার ফলে একজন স্নাতকোত্তর ব্যক্তি একটির বেশি দুটি বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারলেও ছাত্রলীগ একটিতে অংশ গ্রহণ করতে পারছেনা। কারণ ছাত্রলীগের কর্মীদের নেতার চামচামির করতে করতেই কেটে যায় চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩০ বছর। যেহেতু একটি বিসিএস পরীক্ষা সম্পন্নের মাধ্যমে চূড়ান্ত নিয়োগ দিতে আড়াই বছরের বেশি সময় লেগে যায়। ফলে একজন ছাত্রলীগের কর্মী স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ প্রার্থী পরবর্তী বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ ও আগ্রহ দুটিই হারিয়ে ফেলছে।

শিক্ষার হার বৃদ্ধি, শিক্ষার মান ও উচ্চশিক্ষার প্রভাবে দেশের অর্থনৈতিক পটপরিবর্তন হয়েছে অনেকটাই।তবে পরিবর্তন হয়নি ছাত্রলীগের ভিতর। সরকারি তথ্যানুযায়ী, দেশের শিক্ষিত জনশক্তির পরিমাণ বা শতকরা হার অনেক বেশি। তবে এর বিপরীতে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান না থাকায় কর্মশূন্য বেকার মানবসম্পদের ভারে সমাজ-সংস্কৃতি ও রাজনীতি কলুষিত হচ্ছে প্রায়ই। অর্থনৈতিক চাকার স্বাভাবিক গতিও মন্থর হয়ে পড়ছে। আর এর সঙ্গেই যোগ হয়েছে দেশের রাজনীতির প্রতিযোগিতামূলক টানাপড়েনের প্রভাব।

বর্তমান ছাত্রলীগের বিষয়ে জানতে চাইলে মনিরামপুর উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মুরাদ উজ্জামান মুরাদ বলেন, ২০১৪ সালের পূর্বে ছাত্রলীগের অনেকের চাকুরী হয়েছে তবে তুলনামূলক খুবই কম। কিন্তু ২০১৪ সালের জাতীয় সাংসদ নির্বাচনে মনিরামপুর ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগের প্রতীক নৌকার পক্ষে অবস্থান নিয়ে নির্বাচন করেছিল। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও মনিরামপুরে ছাত্রলীগ দলীয় প্রতীক নৌকার পক্ষে অবস্থা নিয়ে নির্বাচন কর। ফলে মনিরামপুর উপজেলা, পৌরসভা, মনিরামপুর কলেজসহ ১৭ইউনিয়নের অধিকাংশ ছাত্রলীগের মাস্টার্স শেষে করে বয়স ৩০ পার করলেও জোটেনি চাকরির ক্ষেত্রে কোন দলীয় সুযোগ সুবিধা। এমনকি বেসরকারি কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকুরী করতে গেলে মোটা অংকের টাকা না থাকায় চাকরি হয়নি অনেকেরই।

বিশেষ এক সাক্ষাতে মনিরামপুর ১নং রহিতা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের হতাশাগ্রস্ত আহ্বায়ক মোঃ সোহাগ হোসেন বলেন, আমি মাস্টার্স শেষ করে বসে আছি দীর্ঘদিন, কিন্তু কোন চাকরী সুযোগ এখনো পাইনি। এমনকি আমার রহিতা ইউনিয়নের কোন ছাত্রলীগ কর্মী দলীয় সুযোগ সুবিধা পেয়েছে কিনা আমার জানা নায়।

২নং কাশিমনগর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান আল-মামুন বলেন, কোন চাওয়া বা পাওয়ার জন্য ছাত্রলীগ করিনা, ছাত্রলীগ করি বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ভালোবেসে। তবে বর্তমান দেশের বেকারত্ব বিরাট সমস্যা সেখানে আমাদের আওয়ামী লীগের অনেক শিল্পপতি আছেন তারা যদি এগিয়ে আসতেন তাহলে আমরা ছাত্রলীগ কর্মীরা সরকারী চাকরি না পেলেও বেকারত্বের হতাশা থেকে কিছুটা মুক্তি পেতাম।

৩নং ভোজগাতি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক জিএম হারুন বলেন, চাকরি তো দূরের কথা। সাবেক জামাতের চেয়ারম্যান জিএম হুমায়ুন কবির মুক্তার দায়েরকৃত মিথ্যা মামলার জর্জরিত হয়ে আমি-সহ আমার ৮ জন ছাত্রলীগের কর্মী নির্যাতিত হলেও বর্তমান মনিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের কোন নেতার কাছ থেকে সুযোগ সুবিধা পাচ্ছি না। এমন কি দল আমাদের এই মামলা চালাতে কোন ধরনের কোন সহযোগিতা করছেনা।

৪নং ঢাকুরিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি জিএম মারুফ বলেন, আমি ছাত্রলীগ করি বঙ্গবন্ধুকে ভালবেসে কোন কিছু চাওয়া বা পাওয়ার উর্ধ্বে। তবে সব কর্মী কিন্তু নেতা হয়না। তাই যদি সেই সব সাধারণ কর্মীদের কোন কর্মসংস্থান হতো তাহলে আরো নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছাত্রলীগ করার আগ্রহ বৃদ্ধি পেত। কিন্তু অতিব দুঃখের সাথে বলতে হয় বর্তমান আমার এলাকায় ছাত্রলীগ করার জন্য আওয়ামী লীগের কোন সহযোগিতা আমরা পাইনা।

৫নং হরিদাসকাটি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সবুজ বিশ্বাস বলেন, আমার এলাকায় ছাত্রলীগের কোন বাগ স্বাধীনতা নেই। আমি গত উপজেলা নির্বাচনে আমার মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচন করায় আমাকে জীবন নাসের হুমকি দেওয়া হয়েছে। যার ফলে আমি দীর্ঘদিন ভারতে পলাতক ছিলাম। পরবর্তীতে আমি বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর লিখিত দিলে তিনি আমাকে এলাকায় আসার আশ্বাস দেন। তবে আমি একা নই, আমার এলাকার প্রত্যেকটি ছাত্রলীগের কর্মী আজ নির্যাতিত। আর চাকরি বাকরি তো দূরের কথা আমার ৪২ শতক মজি দখল করে নিয়েছে এলাকার কিছু সন্ত্রাসী বাহিনী। তার বিচার আজও পাইনি এবং মনিরামপুর আওয়ামী লীগ আমার বিচারের ব্যবস্থাও করেনি।

৬নং সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, আমি ছাত্রলীগ করি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে এবং আমার উপজেলার নেতা মুরাদ ভাইকে ভালবেসে। তাই নিজ দলের কথা খারাপ কিছু বলতে চাই না। তবে আমরা ভালোনেই কারণ বিগত দিনে আমি ছাত্রলীগের সভাপতি হওয়ার অপরাধে আমাকে কৃষি শুমারীর কাজ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সেখানে আমরা ছাত্রলীগ করে চাকরি পাব এটা আশা করি কীভাবে?

৭নং খেদাপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক হাদিউজ্জামান হাদি বলেন, আমার এলাকার বর্তমান ছাত্রলীগের অবস্থা খুবই নাজুক, কোনমতে চলছে। তবে ছাত্রলীগের সমসাময়িক অবস্থা ও দলীয় কোন সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে কিনা চাকরি চাকরির ব্যাপারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার জানামতে আমার এলাকায় তেমন কোন ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা ভালো কোন অবস্থানে যেতে পারে নাই। তবে আমাদের আওয়ামী লীগের উপর মহলের নেতাকর্মীদের শুভদৃষ্টি  কামনা করি ছাত্রলীগের প্রতি।

৮নং হরিহর নগর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি শরীফ আহম্মেদ বলেন, আমার এলাকার ছাত্রলীগের কোন কর্মী চাকরিতে সুযোগ সুবিধা পেয়েছে বলে আমার জানা নাই এবং আমরা দলীয় কোন সুযোগ সুবিধা পাইনা সংগঠন করার জন্য। তবে সরকারের উচিত ছাত্রলীগের কর্মীদের চাকরির সুযোগ সুবিধা দেওয়া।

৯নং ঝাঁপা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক রাকিব হাসান বলেন, আমি (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) এক নেতাকে টাকা দিয়েছিলাম চাকরির জন্য কিন্তু আমার সে চাকরি হয়নি। তবে টাকা ফিরিয়ে দিলেও এখনও কিছু টাকা পাইনি। আমার জানামতে আমি এখনো দেখেনি আমার ইউনিয়নের কোন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীকে দলীয় সুযোগ সুবিধায় চাকরি পেতে। এক কথায় আমরা যারা ছাত্রলীগ করি আমরা কেউ কোন দলীয় সুযোগ সুবিধা পাইনি তবে সব নেতারা আমাদেরকে আশা দেয় কিন্তু সে অনুযায়ী কাজ করেনা।

১০নং মশ্বিমনগর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তেমন কোন মন্তব্য না করে বলেন আমি আপনার সাথে পরে যোগাযোগ করব। তবে ইতিমধ্যে উক্ত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের এক কর্মী সোশাল মিডিয়ায় ঈদের বোনাস চাই প্রসঙ্গে দরখাস্ত লিখে আলোচনার ঝড় তুলেছেন। এতেই বোঝা যায় মশ্বিমনগর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা কতটা ভালো আছে।

১১নং চাঁলুয়াহাটি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক রাজু আহম্মেদ বলেন, আমার এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খুবই ভালোমানুষ। আমরা সকলে তার কাছ থেকে সুযোগ সুবিধা পাচ্ছি। তবে  উপজেলা আওয়ামী লীগের কোন সুযোগ সুবিধা আমরা পাই না। আমাদের চেয়ারম্যান হামিদ সাহেবের মতো সবাই যদি ছাত্রলীগের নিবেদিত প্রাণ হতো তাহলে ছাত্রলীগ প্রাণ ফিরে পেত।

১২নং শ্যামকুড় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক জাকির হোসেন বলেন, আমার এলাকার ছাত্রলীগ শান্তি প্রিয়। তবে ছাত্রলীগের চাকরি হয়েছে এমন কোন সংবাদ আমার কাছে নেই।

১৩নং খানপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহবায়ক ওলিয়ার রহমান বলেন, আমরা ছাত্রলীগ করি দলকে ভালবেসে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে লালন করি। আমরা বঙ্গকন্যা ভ্যানগার্ড হিসাবে বাকি জীবন থাকতে চাই। তবে দলের কাছে আমাদের কর্মজীবনে সুযোগ সুবিধা জন্য বিশেষ অনুরোধ  করছি। 

১৪নং দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহবায়ক আবু সাঈদ বলেন, আমি প্রয়াত নেতা খান টিপু সুলতানের আদর্শের একজন কর্মী হওয়ার কারণে আজ একাধিক মামলার আসামী এবং এলাকা ছাড়া। আজ দল ক্ষমতায় থেকেও আমরা যেন বিরোধী দলে আছি। তবে কে বা কারা তাকে নির্যাতন করছে জানতে চাইলে বলেন আমি নাম প্রকাশ করবো না। তবে আমার নেতা খান টিপু সুলতান বিরোধীরাই আমাকে ভিটেমাটি ছাড়া করেছে এবং আমার ইউনিয়নে প্রতিটি ছাত্রলীগ আজ অসহায়। 

১৫নং কুলটিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক নাজমুল হাসান বলেন, আমি ছাত্রলীগ করতে এসে নির্যাতিত হয়েছি। আমার এলাকায় ছাত্রলীগের কর্মীদের সামান্য কৃষি শুমারী কাজ পর্যন্ত করতে বাঁধা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবাদ করতে গেলে আমাকে বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের হস্তক্ষেপে আমি আবারও কমিটি ফিরে পাই। তবে সবমিলিয়ে আমরা এখন অসহায় আছি। 

১৬নং নেহাল পুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি হুমায়ুন কবির লিটন বলেন, চাকরি বলতে যার টাকা আছে তার চাকরি আছে, যার টাকা নেই তার চাকরি নেই। তবে সবমিলিয়ে ছাত্রলীগ ভালো নেই। 

১৭নং মনোহরপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বর্তমান ছাত্রলীগের দলীয় সুযোগ সুবিধা হলো কল্পনাতীত। আর সেখানে আমাদের চাকরি দিবে কে?

সর্বশেষ মনিরামপুর পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি হুমায়ুন কবির বলেন আমার পৌর ছাত্রলীগ কোন দলীয় সুযোগ সুবিধা বা চাকরি পাইনি। তবে আমাদের নামে একাধিক নিজ দল আওয়ামী লীগের গ্রুপিং মামলা হামলা আছে।

অতএব, সরকারসহ মনিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, কীভাবে দেশ ও মনিরামপুরে দ্রুত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা যায় ও বিদ্যমান বেকারত্বের মাত্রা বিবেচনা করে কিভাবে তা কমিয়ে আনা যায় সেদিকে খেয়াল রেখে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণই সবার কাম্য। চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনের পাশাপাশি পিএসসিসহ বিভিন্ন নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে অতি অল্প সময়ে শূন্যপদে লোক নিয়োগের মাধ্যমে ছাত্রলীগের কর্মসংস্থান সংকট নিরসনসহ দৈনন্দিন কাজে গতি ফিরিয়ে আনতে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া উচিত।

লেখক,
মোঃ শাহ্ জালাল। 
গণমাধ্যম কর্মী ও সাবেক ছাত্রনেতা।

শাহ্‌ জালাল / কামরুজ্জামান রাজু


মন্তব্য করুন

সাংবাদিক কামরুল সিকদারের মাতার ইন্তেকাল

প্রাথমিক শিক্ষকের ছেলে থেকে মাফিয়া ডন

গ্রামবাসীর সাঁকো দেখিয়ে টাকা মারলেন চেয়ারম্যান

আওয়ামী লীগের দুর্নীতির কল বাতাসে নড়ছে : মিজা ফখরুল

আওয়ামী লীগ নেতারাও নজরদারিতে: ওবায়দুল কাদের

বিএনপিই ঢাকাকে ক্যাসিনোর শহরে পরিণত করেছে: ওবায়দুল কাদের

আইনে নিষিদ্ধ তবুও লাইসেন্স পাচ্ছে মদ জুয়া

বিপুল টাকাসহ যুবলীগ নেতা জি কে শামীম আটক

ঠাকুরগাঁওয়ে বাংলাদেশি "যুবককে" ধরে নিয়ে হত্যা করেছেন বিএসএফ

সৌদি আরবে বাংলাদেশীকে গলা কেটে হত্যা করেছে অপর দুই বাংলাদেশী রুমমেট

ঢাবির 'ক' ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

চট্রগ্রামে আজ মুখোমুখি জিম্বাবুয়ে-আফগানিস্তান

কালীগঞ্জে সুপারি গাছ থেকে পড়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে সিয়াম!

কারাগার থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এহসান হাবিব সুমন এর খোলা চিঠি

যেকোন সময় ঘোষণা হতে পারে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি

৫০ বছর ধরে দল করেও সুবিধা বঞ্চিত আ'লীগের প্রচার সম্পাদক নূরুল হক

যশোরের রাজগঞ্জে ৫৬ যুবকের উদ্যোগে ভাসমান সেতু র্নিমাণ

কেশবপুরের শাহীনের সেই ভ্যানটি উদ্ধার, আটক তিনজন

এসএসসি পরীক্ষাঃ বাংলা দ্বিতীয় পত্রে বেশি নম্বর সহজেই...

নোংরা রাজনীতির শিকার যশোরের এমপি স্বপনের ছেলে শুভ

লালমনিরহাটে এক বিধবা মা বাইসাইকেল চালিয়ে ৪২ বছর স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন

নারী সহকারীর সঙ্গে ডিসির অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল, সংবাদ না করার অনুরোধ

আমি চাই আমাকে দেখে আর দশটা মেয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হোক - শ্রাবন্তী অনন্যা

বিএনপি নেতা আবু বকর আবু’র জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল

আপনার কাছে জনপ্রিয় খেলা কোনটা ?

  ক্রিকেট

  ফুটবল

  ভলিবল

  কাবাডি

অফিস ঠিকানা  

আর এল পোল্ট্রি, উপজেলা রোড, কেশবপুর বাজার, যশোর।
মোবাইলঃ   ০১৭১৯২৮০৮২৭
ইমেইলঃ   info@kopotakkhonews24.com

প্রকাশক ও সম্পাদক 

মোঃ মাহাবুবুর রহমান (মাহাবুর)

মোবাইলঃ   ০১৭১৯২৮০৮২৭
ইমেইলঃ   info@kopotakkhonews24.com

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা