আজ শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬           আমাদের কথা    যোগাযোগ
Owner

শিরোনাম

  জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল কপোতাক্ষ নিউজের জন্য বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহী প্রার্থীরা ০১৭১৯২৮০৮২৭ নাম্বারে যোগাযোগ করুন।  

ভালোবাসা কারও জীবনে স্থায়ী হয় না


ভালোবাসা কারও জীবনে স্থায়ী হয় না

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ৩১, ২০১৯   পঠিতঃ 52353


ভালোবাসা কারও জীবনে স্থায়ী হয় না।কেন এমন হয়? ভালোবাসা? এত প্রশ্ন কেন এই চার অক্ষরে। কি আছে এতে? কেউ জানেনা এর মানে। ভালোবাসার নৌকা চলে জীবনের উপর দিয়ে। নাকি জীবনের নৌকা চলে ভালবাসার উপর দিয়ে। এত বোঝার প্রয়োজন হয়ে ওঠেনা। সে সময়ও নেই। শুধু এতটুকু বলা যায়, এই চলার পথে যে মাঝি আছেন তিনি শুধু বেয়ে যান নৌকা। আর যিনি যাত্রী হয়ে বসে থাকেন নৌকায়, তিনি শুধু চেয়ে থাকেন অপলক দৃষ্টিতে। এভাবেই চলে জীবন আর চলছে ভালোবাসা।

সম্প্রতি ফেসবুকে এক ভালোবাসার দম্পতির গল্প ভাইরাল হয়েছে ছবিসহ। গল্পটি পড়ে অনেকেই কেঁদেছেন । কি আছে সেই ভালোবাসার গল্পে? চলুন পাঠক পড়ে আসি সেই ভালোবাসার গল্পটি। গল্পটি পড়ে আবার আপনিও কাঁদবেন না তো? ভাবুন একবার।

ওর সাথে পারিবারিকভাবেই বিয়েটা হয়েছিলো।বাসর রাতে ওর প্রথম প্রশ্ন ছিলো, কয়টা প্রেম করছেন?আমি ওর মুখের দিকে অনেকক্ষন তাকিয়ে ছিলাম। আবার বলেছিলো, কয়টা প্রেম করছেন? আমি বলেছিলাম, একটাও না!উওরটা শুনে অনেক খুশি হয়েছিলো। বলেছিলো, এখন থেকে শুধু আমাকেই ভালোবাসবেন অন্য কোন মেয়ের দিকে তাকালে মেরে ফেলবো! ও আমাকে কতটা ভালোবাসে বুঝেছিলাম সেই দিন। যেদিন আমি ওর চাচাতো বোনের সাথে হেসে হেসে কথা কিছুক্ষনবলছিলাম।ও আমাকে জড়িয়ে ধরে সে কি কান্না!

আমাকে বলেছিলো, তোমাকে না বলেছি আর কারো সাথে কথা বলবে না। আমি মরে গেলে ইচ্ছেমত কথা বলো!তখন আর নিষেধ করবো না!ওর কাঁন্না দেখে আমি নিজেই কেঁদেছিলাম।

ও আমাকে বলেছিলো,আমি নাকি
বাবা হবো! কথাটা শুনে যে কি খুশি
হয়েছিলাম বোঝাতে পারবো না!
ওকে কোলে করে সারা বাড়ি ঘুরেছিলাম।

ও আমাকে বলতো, রান্না করার সময় ওকে পিছন থেকে জড়িয়ে না থাকলে
নাকি ওর রান্না করতে ইচ্ছে করে না।
আমি ওর সব আবদার হাসি মুখে পূরণ করতাম। বড্ড ভালোবাসতাম ওকে।
এখনো অনেক ভালোবাসি।

ও আমাকে বলেছিলো, আমাকে জড়িয়ে ধরে না ঘুমালে নাকি ওর ঘুমই আসে না!
সারারাত জড়িয়ে ধরে থাকতো।তাই কোথাও রাতে থাকতাম না। যত রাতই
হোক, বাসায় আসতাম!

ও যখন ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, তখন আমাকে বলেছিলো, আমাকে ছাড়া তোমার কেমন লাগবে গো?আমি ওর কথা উওর দিতে পারি নি, শুধু কেঁদেছিলাম!
ও আমাকে প্রায় বলতো,আমার যদি কিছু
হয়ে যায় তুমি আবার আরেকটা বিয়ে করো না যেন!মরে গিয়েও তোমাকে অন্য কারও হতে দিবো না!আমাকে ভুলে যেও না।ওর কথা শুনে কাঁদতাম।

ঘুমানোর সময় আমাকে বলতো, আমাকে ছাড়া ঘুমানোর চেষ্টা করো? বলা তো যায় না……….
আমি ওকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ঘুমাইতাম !

একদিন ওর ব্যথা উঠলো! সাথে সাথে ওকে হাসপাতালে নিয়ে গেলাম।
ও আমাকে বলেছিলো, আমার যদি
কিছু হয়ে যায় প্লিজ আমাকে ভুলে যেও না! বড্ড ভালোবাসি তোমাকে।
কথাটা শুনে কান্না ধরে রাখতে পারি নি!
ওকে বলেছিলাম, কিছু হবে না তোমার আমি তো আছি। কিছু হতে দিবো না!
ও আমাকে বলেছিলো, শেষ বারের মত একবার বুকে নিবে?
কথাটা বলেই হাউ মাউ করে কেঁদে দিয়েছিলো!
আমিও কান্না ধরে রাখতে পারি নি। ও আমাকে ছেড়ে দিতে চাইছিলো না, জড়িয়ে ধরে কাঁদছিলো!
আমিও কাঁদছিলাম!
সবাই হা করে তাকিয়ে ছিলো।

নিয়েছিলাম ওকে বুকে কিন্তু এটাই যে শেষবার বুঝতে পারি নি। বুঝতে পারলে কখনোই ছেড়ে দিতাম না। ও আমাকে
বলছিলো, আমার সাথে তুমিও চলো। আমার খুব ভয় করছে! ডাক্তারকে কত বার বলেছিলাম,আমিও ওর
পাশে থাকবো! কিন্তু আমাকে যেতে দিলো না।

অপারেশন থিয়েটার থেকে একটা বাচ্চার কান্নার আওয়াজ শুনলাম।
বাচ্চাকে পেলাম, কিন্তু ওকে আর পেলাম না!

পাগলের মতো ওর কাছে গেলাম, দেখলাম সাদা কাপড় দিয়ে ওকে ঢেকে রাখছে।
কাপড়টা সরাতেই অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলাম!
জ্ঞান ফিরার পর দেখলাম ওকে খাটলিতে শুইয়ে রেখেছে। ওর কাছে গেলাম। বলেছিলাম, এই কই যাও আমাকে ছেড়ে?
আমার রাতে ঘুম হয় না তোমাকে ছাড়া জানো না?তোমাকে না জড়িয়ে ঘুমালে আমার ঘুম হয় না ,জানো না?কেন চলে যাচ্ছো?এই উঠো উঠো অনেক তো ঘুমালে, আর কত ঘুমাবে?
আমার কথা মনে পড়েনি?

এই তুমি না বলেছিলে আমার চোখের জল তুমি সহ্য করতে পারো না!
এই দেখো আমি কাদছি,
এই উঠো,আরে উঠো না!
প্লিজ উঠো!ও শুনলোই না আমার কথা ঘুমিয়ে থাকলো!

ওকে যখন নিয়ে যাচ্ছিলো আমি পাগলের মত আচরন করছিলাম।তবুও উঠলো না!
চলে গেলো।ও আমাকে বলতো যে দিন হারিয়ে যাবো সেই দিন বোঝবে কতটা ভালোবাসি তোমাকে!চলে গেলো, হারিয়ে গেলো আমার জীবন থেকে ।

গত দশ বছর ধরে তার স্মৃতি বুকে নিয়ে বেঁচে আছি।ছোট্ট মেয়ে বুঝতে শিখেছে। আমাকে বলে আব্বু আম্মুর জন্য আর কেঁদো না। তোমাকে আর কাঁদতে দিবো না!বলে চোখের পানি মুছে দেয়। আবার চোখ জলে ভরে উঠে, আবার মুছে দেয়।

এমন ভালোবাসার সৃষ্টি হোক সবার অন্তরে।আমার প্রিয়তমা আমাকে অত্যন্ত ভালোবাসে।আমি চাই ভালোবাসা কিন্তু এমন ভালোবাসা চাইনা যা সারাজীবন আমাকে কাঁদাবে। তাদের উদ্দেশ্য বলব যাদের ভালোবাসার নৌকা বয়ে চলে অনবরত।প্রিয় পাঠক বলে রাখি- তোমরা যারা ভালবাসার মানে খুঁজে পাচ্ছো না, তারা রাত্রীর স্নান করা ভোরের শিশির ভেজা ঘাসে হাত বুলিয়ে নিয়ো। আশা করি বুঝে যাবে ভালোবাসা কি!এবং সৃষ্টি হবে ভালবাসার অনুভূতি বেশি বেশি।

লেখক, 
মোঃ শাহ্ জালাল.
সাবেক ছাত্রনেতা ও একজন গণমাধ্যম কর্মী।

শাহ্‌ জালাল / কামরুজ্জামান রাজু


মন্তব্য করুন

কালীগঞ্জে সুপারি গাছ থেকে পড়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে সিয়াম!

কারাগার থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এহসান হাবিব সুমন এর খোলা চিঠি

যেকোন সময় ঘোষণা হতে পারে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি

এসএসসি পরীক্ষাঃ বাংলা দ্বিতীয় পত্রে বেশি নম্বর সহজেই...

৫০ বছর ধরে দল করেও সুবিধা বঞ্চিত আ'লীগের প্রচার সম্পাদক নূরুল হক

যশোরের রাজগঞ্জে ৫৬ যুবকের উদ্যোগে ভাসমান সেতু র্নিমাণ

কেশবপুরের শাহীনের সেই ভ্যানটি উদ্ধার, আটক তিনজন

নোংরা রাজনীতির শিকার যশোরের এমপি স্বপনের ছেলে শুভ

লালমনিরহাটে এক বিধবা মা বাইসাইকেল চালিয়ে ৪২ বছর স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন

নারী সহকারীর সঙ্গে ডিসির অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল, সংবাদ না করার অনুরোধ

আমি চাই আমাকে দেখে আর দশটা মেয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হোক - শ্রাবন্তী অনন্যা

বিএনপি নেতা আবু বকর আবু’র জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল

আপনার কাছে জনপ্রিয় খেলা কোনটা ?

  ক্রিকেট

  ফুটবল

  ভলিবল

  কাবাডি

অফিস ঠিকানা  

আর এল পোল্ট্রি, উপজেলা রোড, কেশবপুর বাজার, যশোর।
মোবাইলঃ   ০১৭১৯২৮০৮২৭
ইমেইলঃ   info@kopotakkhonews24.com

প্রকাশক ও সম্পাদক 

মোঃ মাহাবুবুর রহমান (মাহাবুর)

মোবাইলঃ   ০১৭১৯২৮০৮২৭
ইমেইলঃ   info@kopotakkhonews24.com

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা