আজ শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২০, ১১ মাঘ ১৪২৬           আমাদের কথা    যোগাযোগ
Owner

শিরোনাম

  জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল কপোতাক্ষ নিউজের জন্য বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহী প্রার্থীরা ০১৭১৯২৮০৮২৭ নাম্বারে যোগাযোগ করুন।  

দ্রুত বিচারহীনতার কারণে বাড়ছে ধর্ষণ, এর শেষ কোথায়?


দ্রুত বিচারহীনতার কারণে বাড়ছে ধর্ষণ, এর শেষ কোথায়?

প্রকাশিতঃ বুধবার, জানুয়ারী ৮, ২০২০   পঠিতঃ 52353


মোঃ শাহ্ জালাল, ঢাকা প্রতিনিধি :

বাংলাদেশে ধর্ষণ বাড়ছে৷ বেড়েছে নারীর প্রতি সহিংসতাও৷ কঠোর আইন, প্রচার প্রচারণা ও উচ্চ আদালতের নানা ধরনের নির্দেশনার পরও নারীর প্রতি সহিংসতা কমানো যাচ্ছে না৷ ২০১৮ সালে এই সংখ্যা ছিলো ৭৩২জন৷ অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে দ্বিগুণ যা ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি৷

২০১৭ সালে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৮১৮ জন নারী৷ এদিকে ২০১৯ সালে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৭৬জনকে৷ আর আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন ১০জন নারী৷

নারীর প্রতি সহিংসতার অন্য চিত্রগুলোও ভয়াবহ৷ ২০১৯ সালে যৌন হয়ানারীর শিকার হয়েছেন ২৫৮ জন নারী৷ ২০১৮ সালে এই সংখ্যা ছিলো ১৭০ জন৷

২০১৯ যৌন হয়রানীর শিকার ১৮ জন নারী আত্মহত্যা করেছেন৷ প্রতিবাদ করতে গিয়ে চারজন নারীসহ ১৭ জন হত্যার শিকার হয়েছেন৷ যৌন হয়রানীর প্রতিবাদ করতে গিয়ে ৪৪ পুরুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন৷

গত বছর যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৬৭ জন নারী৷ তাদের মধ্যে নির্যাতনে নিহত হন ৯৬ জন এবং আত্মহত্যা করেন তিনজন৷ আর পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মোট ৪২৩ জন নারী৷

গত বছর ২০০ জন নারী তাদের স্বামীর হাতে হত্যার শিকার হয়েছেন৷ ২০১৮ সালে এই সংখ্যা ছিলো ১৭৩ জন৷

এর বাইরে অ্যাসিড নিক্ষেপ, ফতোয়া এবং সালিশি ব্যবস্থার শিকার হয়েছেন অনেক নারী৷ গত বছর তিনজন নারী ফতোয়ার কারণে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন৷ তাদের মধ্যে একজন পরে আত্মহত্যা করেন৷

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক নির্বাহী পরিচালক এবং মানবাধিকার নেত্রী সুলতানা কামাল নারীর প্রতি সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে বিচারহীনতাকেই দায়ী করেন৷ তবে রাষ্ট্র ও সমাজে নারীর প্রতি সহিংসতার আরো অনেক উপাদান আছে বলে মনে করেন তিনি৷
তিনি বলেন, ‘‘ধর্ষণসহ নারীর প্রতি সহিংসতার যেসব ঘটনা ঘটে তার একটি অংশ জানা যায় না৷ এ বিষয়ে কোনো মামলা হয় না৷ 

আর যেগুলোর মামলা হয় বিশেষ করে ধর্ষণের ক্ষেত্রে সেখানে শতকরা মাত্র তিন ভাগ ঘটনায় শেষ পর্যন্ত অপরাধী শাস্তি পায়৷ আর ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় শাস্তি হয় মাত্র শূন্য দশমিক তিন ভাগ৷ তাহলে বোঝা যাচ্ছে এ ধরনের কোনো ঘটনায় বিচার হয় না৷’’ তবে এর বাইরেও আরো অনেক বিষয় আছে বলে মনে করেন তিনি৷

এ মানবাধিকার নেত্রী বলেন, ‘‘যারা ধর্ষক তারা ধর্ষণের শিকার নারীর চেয়ে শক্তিশালী৷ অন্যদিক বাদ দিলেও লৈঙ্গিকভাবে পুরুষ শক্তিশালী৷ তারা সামাজিক এবং রাজনৈতিকভাবেও শক্তিশালী৷ নারীদের সামাজিকভাবে সুরক্ষা দেয়ার রাষ্ট্রের যে দায়িত্ব রয়েছে রাষ্ট্র তা পালন করছে না৷ আর নারীদের বাইরে বের হওয়া কিংবা কাজে যাওয়ার বিষয়গুলোকে সমাজে এখনো ভালো চোখে দেখা হয় না৷ নারীর বাইরে বের হওয়াকে পুরুষের ক্ষমতা খর্ব হওয়া হিসেবে দেখা হয়৷ আর প্রতিদিন নানা জায়গায় নারীর বিরুদ্ধে কথা বলা হয় কিন্তু সরকার ব্যবস্থা নেয় না৷ ফলে নারীর প্রতি সহিংসতা বাড়ছে৷এছাড়া মানবাধিকার কর্মীরা আরো অভিযোগ তুলছেন, জামিন অযোগ্য অপরাধ হওয়ার পরও অনেক ক্ষেত্রে জামিন পেয়ে যাচ্ছে অভিযুক্তরা।"

এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বিবিসি বাংলাকে বলেন, অপরাধ করে সহজে জামিন পাওয়া গেলে অপরাধের মাত্রা বেড়ে যায়।
“অপরাধ করে সহজে জামিন পাওয়া গেলে হয়তো অপরাধের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তবে অপরাধী জামিন পাবে না -আইনজীবী হিসেবে তো সেটা বলা যায় না। সুতরাং ধর্ষণের ব্যাপারে যদি আলাদা সেল করা হয় , মামলার গতি তদারকি করা হয়, তাহলে এ ধরনের অপরাধ অনেকটা কমতে পারে” 

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম মনে করেন, এ ধরনের মামলার বিচারের দীর্ঘসুত্রতা দূর করতে উদ্যোগ নেয়া দরকার।

ধর্ষণ মামলায় সাক্ষ্য আইনের সাহায্য নিতে হয়। এছাড়া বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণের সন্নিবেশ ঘটাতে গিয়ে বিচারের দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়।

বিষয়টি আরও সহজ করার যায় কি-না?
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, শিশু ধর্ষণের ঘটনার ক্ষেত্রে আইন সংশোধন করা যেতে পারে, যেখানে শিশু ভিকটিমকে আদালতে গিয়ে সাক্ষ্য দিতে হবে না।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বলা আছে, ১৮০ দিনের মধ্যে মামলা প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।
কিন্তু এমন অনেক নজির আছে যে বছরের পর বছর ধরে মামলা চলছে। তাই বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন শিশু অধিকার কর্মীরা।

" তাই আইন সংশোধন করা যেতে পারে এভাবে যে, এক্সপার্টদের কাছে ভিকটিমকে নেয়া হবে। এরপর তারা রিপোর্ট দেবে। এরপর আর কোনও প্রক্রিয়ার মধ্যে যেতে হবে না। ওই চিকিৎসকদের রিপোর্টের ভিত্তিতে চার্জশিট দেবে পুলিশ। চিকিৎসকদের সাথে মানবাধিকার কর্মীও থাকতে পারেন”।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও অপরাধ বিজ্ঞানের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জনের মতে নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে শক্ত আইন আছে৷ ‘‘কিন্তু শাস্তি দিয়ে খুব বেশি অপরাধ কমানো যায় না৷ আর এটা ধর্ষণ এবং ধর্ষণের পর হত্যার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য৷ আমাদের এখানে সমাজের ভিতরে অসংখ্য উপাদান আছে যা ধর্ষণ বা নারীর প্রতি সহিংসতাকে উসকে দেয়৷ আমাদের সমাজে এখানো নারীকে ভোগের সামগ্রী মনে করা হয়৷ তাকে সেভাবে উপস্থাপনও করা হয় বিভিন্ন মাধ্যমে,’’ বলেন তিনি৷

ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থা এবং সাক্ষ্য আইনে নানা সমস্যা রয়েছে৷ আছে ধর্ষণের শিকার একজন নারীর চরিত্র হননের সুযোগ৷ কিন্তু একজন যৌনকর্মীর সঙ্গেওতো তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছু করা যাবে না৷ করা হলে সেটা ধর্ষণ হবে৷ এখানে অভিযোগ থানায় জানাতে গিয়েও ধর্ষণের শিকার হয়, বললেন শেখ হাফিজুর রহমান৷তিনি বলেন, ‘‘একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ডাক্তারি পরীক্ষা না করলে ধর্ষণের আলামত নষ্ট হয়ে যায়৷ আদালতে তাকে অনেক বিব্রতকর প্রশ্ন করা হয়৷ ফলে অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে৷’’

বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে বাংলা ট্রিবিউনের গবেষণা বিভাগের গবেষণায় দেখা যায়, গতবছরের তুলনায় এবছর ধর্ষণের পরিমাণ বেড়েছে দ্বিগুন।

শাহ্‌ জালাল / ইসরাফিল হোসেন


মন্তব্য করুন

দেশে হিন্দুত্বের নামে হিন্দুদের বদনাম করা হচ্ছে : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

বিএসএফের গুলিতে আরও ৪ বাংলাদেশি নিহত

ইদলিবে সন্ত্রাসী হামলায় সিরিয়ার ৪০ সেনা নিহত, আহত অনেক

রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় মিয়ানমারের প্রতি আন্তর্জাতিক আদালতের গুরুত্বপূর্ণ ৪ নির্দেশ

ঢাকা সিটি নির্বাচন: কারচুপির বিরুদ্ধে বিএনপি'র হুঁশিয়ারি এবং সিইসির বক্তব্য

যশোরে ১২ ফুট লম্বা গাঁজা গাছসহ আটক ১

মণিরামপুরে দুই বিঘা জমির ক্ষীরা গাছ কেটে দিল দুর্বৃত্তরা

এবার শার্শা সীমান্তে বাংলাদেশী রাখালকে নির্যাতন করে হত্যা করল-বিএসএফ

কয়রায় বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে অভিভাবক সমাবেশ

কয়রা থানায় ‘ওপেন হাউজ ডে’ অনুষ্ঠিত

অসুস্থ মেধাবী ছাত্রকে দেখতে হাসপাতালে এমপি বাবু

১৭তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

কালীগঞ্জে সুপারি গাছ থেকে পড়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে সিয়াম!

কারাগার থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এহসান হাবিব সুমন এর খোলা চিঠি

যেকোন সময় ঘোষণা হতে পারে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি

এসএসসি পরীক্ষাঃ বাংলা দ্বিতীয় পত্রে বেশি নম্বর সহজেই...

৫০ বছর ধরে দল করেও সুবিধা বঞ্চিত আ'লীগের প্রচার সম্পাদক নূরুল হক

যশোরের রাজগঞ্জে ৫৬ যুবকের উদ্যোগে ভাসমান সেতু র্নিমাণ

কেশবপুরের শাহীনের সেই ভ্যানটি উদ্ধার, আটক তিনজন

নোংরা রাজনীতির শিকার যশোরের এমপি স্বপনের ছেলে শুভ

লালমনিরহাটে এক বিধবা মা বাইসাইকেল চালিয়ে ৪২ বছর স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন

নারী সহকারীর সঙ্গে ডিসির অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল, সংবাদ না করার অনুরোধ

আমি চাই আমাকে দেখে আর দশটা মেয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হোক - শ্রাবন্তী অনন্যা

বিএনপি নেতা আবু বকর আবু’র জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল

আপনার কাছে জনপ্রিয় খেলা কোনটা ?

  ক্রিকেট

  ফুটবল

  ভলিবল

  কাবাডি

অফিস ঠিকানা  

আর এল পোল্ট্রি, উপজেলা রোড, কেশবপুর বাজার, যশোর।
মোবাইলঃ   ০১৭১৯২৮০৮২৭
ইমেইলঃ   info@kopotakkhonews24.com

প্রকাশক ও সম্পাদক 

মোঃ মাহাবুবুর রহমান (মাহাবুর)

মোবাইলঃ   ০১৭১৯২৮০৮২৭
ইমেইলঃ   info@kopotakkhonews24.com

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা