আজ বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২০, ১৮ চৈত্র ১৪২৬           আমাদের কথা    যোগাযোগ
Owner

শিরোনাম

  জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল কপোতাক্ষ নিউজের জন্য বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহী প্রার্থীরা ০১৭১৯২৮০৮২৭ নাম্বারে যোগাযোগ করুন।  

সংসারী কোন নারী চাইনা স্বামীকে ডিভোর্স কিংবা আইনী সাজা দিতে


সংসারী কোন নারী চাইনা স্বামীকে ডিভোর্স কিংবা আইনী সাজা দিতে

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ২৭, ২০২০   পঠিতঃ 43659


মোঃ শাহ্ জালাল: সংসারী কোন মধ্য বয়সের সাধারণ একজন নারী পারেনা সংসার ভেঙে দিতে কিংবা  স্বামীকে আইনীভাবে সাজা দিতে।আনুমানিক ৪৫ এর কাছাকাছি বয়সে আকলিমা( ছদ্মনাম) পাশাপাশি ফ্লাটে বসবাস, তার এক মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। আরেক ছেলে ও মেয়ে কলেজ পড়ুয়া। রাজধানীর আকলিমা পরিচিত মুখ। তার কারণ প্রায় ২ বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে সে স্বামীর দ্বারা অত্যাচারিত হয়ে আসছে। আকলিমা অনেকবার স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগও করেছে। স্বামী কখনো  মেরে রক্তাক্ত করে  দেয়, কখনো হাত পা ভাংগে। থানায় যেয়ে কান্নাকাটি অভিযোগ করে। পুলিশ সব শুনে  প্রতিবারই  মামলা করতে বলে। কিন্তু আকলিমা  নির্যাতনের মামলা করে না।

স্বামীকে অভিযোগের  কারণে পুলিশ ধরে  আনলে ছেলে মেয়ে, আত্নীয় স্বজনের চাপে ছাড়িয়ে নিতে হয় তাকে। প্রায়  ২০ /২৫ বছরের সংসার জীবনে আকলিমার এমন নির্যাতন কথা শুনে অবাক হতে হয়।

এবার আকলিমার হাত দুটো আঘাতে বিৎভস অবস্থা। ভারী শরীর আর মারাত্মক ব্যাথার কারণে  হাঁটতে পারছে না। এত কিছুর পরেও নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারে না আকলিমা। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী যতই আইনের কথা বলুক, সে মামলা করতে নারাজ। দুদিন হাজতে রেখে সাজা দিতে চায়। কিন্তু মামলা করে শাস্তি দিতে সাহস পায় না। মুখে বলে দরকার হলে ডির্ভোস দিবে। তাও আসলে হবে না। থানায় মেয়েরা আর শ্বশুর বাড়ির লোকজন তার পক্ষে বয়ান দেয়। কিন্তু অন্যভাবে এ ঘটনা চাপা দিতে দ্বিগুন তৎপর তারা। থানার অফিসারের অবস্থা বেগতিক। ভিকটিম না চাইলে মামলা করা অসম্ভব।

মধ্যবয়সী আকলিমা দীর্ঘদিনের সংসারে এ অবস্থা কেন – এমন কৌতুহলী প্রশ্ন সবার মনে। বাবার বাড়ি থেকে পাওয়া সামান্য সম্পত্তি আকলিমার জীবনকে করেছে অনিশ্চিত। স্বামী চায় আকলিমার সম্পত্তি বিক্রি করে টাকা তাকে দিয়ে দিক। স্বামীর সব যন্ত্রণা সয়ে যে মা সন্তানদের পড়াশোনা করিয়ে ভালো পরিবারে বিয়ে দিয়েছে,আজ সে সন্তানরাও  বাবার বিরুদ্ধে  মায়ের থানাতে আসাকে পছন্দ করে না।

আকলিমা এ সমাজের কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বলা হয়ে থাকে বর্তমানে নির্যাতনের কারণে  দাম্পত্য জীবনে   বিচ্ছেদ  বাড়ছে দিন দিন। তবে এ ক্ষেত্রে  একটু লক্ষ্য করলে দেখা যায়, মধ্য বয়সের এমন শত শত নারীরা সংসারের নির্যাতন নিয়ে সহজে মুখ খুলে না। সে হোক কর্মজীবী কিংবা গৃহিনী।

তার কারণ হলো নিজের বয়সের সাথে সাথে সংসার জীবনের ২০ /২৫ বছর পরের হিসেবটা বড় জটিল। তখন স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সম্পর্কের পরিসর বৃদ্ধি পায় সন্তানদের ঘিরে৷ সমাজে নিজেদের একটা অবস্থান থাকে। সে হোক মধ্যবিত্ত, উচ্চ বিত্ত বা নিম্নবিত্ত৷   সেখানে ব্যক্তি সম্মানের পাশাপাশি পারিবারিক মান সম্মান বিশেষ ভুমিকা পালন করে। পরিবারের সদস্যেদের চাওয়া পাওয়াকে অগ্রাহ্য করা কঠিন হয়।

আরেক ভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়,  পুরুষ শাসিত  সমাজে পুরুষের পৌরুষত্ব জাহির করার সর্বপ্রথম  মানুষটি হলো সেই নারী, যিনি তার ঘরের স্ত্রী।  এর জন্য কোন সময় কাল, স্থান, পাত্রের প্রয়োজন হয় না। স্বামীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে  লড়াই করে চলার পথে অনেক কাঁটা। সে পথে চলতে গেলে মনের আবেগ আর বাস্তবতার লড়াইটা মধ্য বয়সের বেশির ভাগ নারীর জন্য অবাস্তব চিন্তা।  স্বামী সন্তান যে তখন তার একমাত্র জগত।

অন্যদিকে বাঙ্গালীদের পিতৃতান্ত্রিক পরিবারের ‘সেক্রিফাইস’ শব্দটি যেন মায়ের জন্য বিশেষভাবে বরাদ্দ। বাবার অন্যায়কে প্রতিবাদ করার সাহস  আধুনিক কালেও তেমনভাবে দেখা যায়  না। বরং মায়ের প্রতি আবদার, আকুতি থাকে বাবার চাওয়াকে মেনে নেয়ার৷  তথাপি একজন ৪০/৪৫ বছরের নারী  যদি ২০/ ২৫ বছরের সংসার করার পর যে কোন ধরনের  নির্যাতনের কারণে  স্বামীকে ডির্ভোস দেয় ; তাহলে  সেটা হয়   ব্যতিক্রমী ঘটনা। তবে একই ঘটনা স্বামীর বেলাতে হতেই পারে বলে মেনে নেয়।

নারীর প্রতি নির্যাতনের জন্য আইন রয়েছে। সমাজে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও হয়। কিন্তু নির্যাতন বন্ধ হচ্ছে না।  প্রতিনিয়ত  নানা ধরনের পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয় বিবাহিত নারীরা৷ শারিরীক  নির্যাতন দেখা গেলেও মানসিক নির্যাতন ধীরে ধীরে নিঃশেষ করে দেয় নারীদের। আর এ ক্ষেত্রে মধ্য বয়সের সাধারণ একজন নারী পারে  না সংসার ভেংগে দিতে কিংবা স্বামীকে আইনীভাবে সাজা দিতে। 

সে ভাবে এমন প্রতিবাদে ছেলে মেয়ে সমাজের কাছে হেয় হবে। আর যদি ছেলে মেয়ের সংসার থাকে তাহলে নির্যাতনের নীলকন্ঠ অবগাহন ছাড়া গত্যন্তর হয় না। এ কারণে বর্তমান সময়েও এগিয়ে যাওয়া সমাজে মধ্য বয়সের এ নারীরা পরিবার, সন্তান স্বামীর মান সম্মানের নামে পরাধীনতার শিকল পরে আছে । ফলশ্রুতিতে  তারা  আবেগে ও বাস্তবতার  মুখোমুখি হয়ে, কেবল নিজেকে বলিদান করে পরিবারের সম্মান বাঁচাতে। আর আইন নির্বাক হয়ে যায় মার খাওয়া  আকলিমার শরীরের কালশিটে দাগগুলো দেখেও৷ কারণ নির্যাতিত আকলিমা নিজেই বিচারের পথকে রুদ্ধ করে দেয়, ইচ্ছায় অনিচ্ছায় লোক দেখানো মান সম্মানের ভয়ে। এই লেখাটি নির্যাতনের শিকার এক নারীর মতামত অনুসারে লেখা হয়েছে। অন্য কারো মতের সাথে তা নাও মিলতে পারে। সুতারাং আমাদের ইচিত সবার মতামতকে সম্মান করা।

শাহ্‌ জালাল / কামরুজ্জামান রাজু


মন্তব্য করুন

কেশবপুর হাসপাতালে ভর্তিকৃত মিলনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা ধরা পড়েনি

ডুমুরিয়ায় কর্মহীন অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

ডুমুরিয়ায় ৩জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা

ফুলপুরে ছাত্রদলের উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ

ফুলপুরে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বর্ধিতসভা ও ত্রাণ কার্যক্রম উদ্বোধন

কেশবপুরে মাসুদ মেমোরিয়াল কলেজ নিয়ে আবারো জটিলতা: ওসির হস্তক্ষেপে সমাধান

মনিরামপুরে ছাত্রলীগ নেতার উদ্যোগে মসজিদে জীবানুনাশক স্প্রে

করোনাভাইরাস: পাঁচ কারণে বাংলাদেশে ঝুঁকি কমছে

‘মানবতার ঘরে’ বিনামূল্যে পাওয়া যাবে চাল-ডাল

জ্বর হলে পুলিশ ধরে নিয়ে যাবে, গুজবে কান দেবেন না

মৃত ব্যক্তির দেহে কতক্ষণ পর্যন্ত করোনাভাইরাস থাকতে পারে?

বিশ্বব্যাপী এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে মারা গেছে ৪২ হাজার

কালীগঞ্জে সুপারি গাছ থেকে পড়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে সিয়াম!

কারাগার থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এহসান হাবিব সুমন এর খোলা চিঠি

যেকোন সময় ঘোষণা হতে পারে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি

এসএসসি পরীক্ষাঃ বাংলা দ্বিতীয় পত্রে বেশি নম্বর সহজেই...

৫০ বছর ধরে দল করেও সুবিধা বঞ্চিত আ'লীগের প্রচার সম্পাদক নূরুল হক

যশোরের রাজগঞ্জে ৫৬ যুবকের উদ্যোগে ভাসমান সেতু র্নিমাণ

কেশবপুরের শাহীনের সেই ভ্যানটি উদ্ধার, আটক তিনজন

লালমনিরহাটে এক বিধবা মা বাইসাইকেল চালিয়ে ৪২ বছর স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন

নোংরা রাজনীতির শিকার যশোরের এমপি স্বপনের ছেলে শুভ

নারী সহকারীর সঙ্গে ডিসির অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল, সংবাদ না করার অনুরোধ

ব্যাচমেট হিসেবে সাইয়েমার পক্ষে সকলের কাছে ক্ষমা চাইলেন কেশবপুরের এসিল্যাণ্ড

আমি চাই আমাকে দেখে আর দশটা মেয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হোক - শ্রাবন্তী অনন্যা

আপনার কাছে জনপ্রিয় খেলা কোনটা ?

  ক্রিকেট

  ফুটবল

  ভলিবল

  কাবাডি

অফিস ঠিকানা  

আর এল পোল্ট্রি, উপজেলা রোড, কেশবপুর বাজার, যশোর।
মোবাইলঃ   ০১৭১৯২৮০৮২৭
ইমেইলঃ   info@kopotakkhonews24.com

প্রকাশক ও সম্পাদক 

মোঃ মাহাবুবুর রহমান (মাহাবুর)

মোবাইলঃ   ০১৭১৯২৮০৮২৭
ইমেইলঃ   info@kopotakkhonews24.com

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা