আজ শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২০, ১৪ চৈত্র ১৪২৬           আমাদের কথা    যোগাযোগ
Owner

শিরোনাম

  জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল কপোতাক্ষ নিউজের জন্য বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহী প্রার্থীরা ০১৭১৯২৮০৮২৭ নাম্বারে যোগাযোগ করুন।  

হারিয়ে গেল মনিরামপুরে বই মেলা, নানান জনের হরেক রকম কথা


হারিয়ে গেল মনিরামপুরে বই মেলা, নানান জনের হরেক রকম কথা

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, মার্চ ১২, ২০২০   পঠিতঃ 48195


বিশেষ প্রতিবেদন : যশোরের মনিরামপুরে ‘সপ্তাহব্যাপী বই মেলা শুরু হয়। ‘সবার জন্য বই, আলোকিত হই’ শ্লোগানকে সামনে নিয়ে প্রতি বছর  মনিরামপুর শিল্পী গোষ্ঠীর উদ্যোগে মনিরামপুর পাইলট হাই স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয় দক্ষিণবঙ্গের সর্ববৃহৎ এ বই মেলা। যার শুরু হয়েছিল ২০০০ সালে মনিরামপুর শিল্পী গোষ্ঠীর প্রতিষ্টা বার্ষিকী উপলক্ষে। এরি মধ্যে পার হয়েছে ২০টি বছর,সর্বশেষ ১৮তম বই মেলা অনুষ্ঠিত হয় ২০১৯ সালে। মনিরামপুর শিল্পী গোষ্ঠীর ওয়েবসাইট সূত্র মতে ২০২০ সালে হওয়ার কথা ছিল ১৯ তম বই মেলার আসর মুজিব বর্ষ উপলক্ষে জমকালো আয়োজনের মধ্যদিয়ে।

 বই মেলা সাধারণত শুরু হয় জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে, কিন্তু এই প্রাণের মেলা এবার হচ্ছে না। কেন হচ্ছে না তার জবাবে উঠে আসে নানান জনের নানান কথা। শিল্পী গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি সঞ্জয় দেবনাথ বললেন। মনিরামপুর বই মেলা এই জনপদের একটি ঐতিহ্য। মানুষ ঈদ, পূজাতে আত্মীয় বাড়ি বেড়াতে আসতে না পারলেও বই মেলা উপলক্ষে আত্মীয় স্বজনদের সমাগম ঘটে এই জনপদে। তবে এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে মেলেনা তেমন কোন ভালো স্পন্সর বা ভালো পৃষ্ঠপোষক। সবাই প্রথমে আগ্রহ প্রকাশ করে কিন্তু শেষ পর্যন্ত তেমন কেউ এগিয়ে আসেননা। এছাড়াও  নানা কারণ রয়েছে । মেলা উপলক্ষে আয়-ব্যায়ের হিসাব মিলালে দেখা যায় প্রতি বছর মেলার আয়টা সবাই দেখতে পাই। কিন্তু ব্যায়ের হিসাবটা কেউ দেখে না বলে নানান মন্তব্য হয়। মেলা শেষে হিসাব করে দেখা যায় মেলার ডেকোরেশন, দোকান, প্যান্ডেল, বিদ্যুৎ, জেনারেটর থেকে শুরু করে অতিথিদের দাওয়াত আপ্যায়ন শিল্পী আনা, উপহার ইত্যাদি সবমিলিয়ে অনেক খরচ। সেই তুলনায় মাঠ থেকে যে টাকা আয় তাতে যদি বিত্তবান ও বিভিন্ন মাধ্যম স্পন্সরে এগিয়ে না আসেন তাহলে লক্ষ টাকার উপরে ঘাটতি থাকে যেটা আমাকে বহন করতে হয়। 

এখন যদি বই মেলা অন্য কোন সংগঠন করতে চাই বা আয়োজন করে তাতে আপনার কোন আপত্তি আছে কি না জানতে চাইলে সঞ্জয় দেবনাথ বলেন, আমি অনেক বার বলেছি অনেককে মেলা করতে। এখন যদি কোন সংগঠন বা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তারা মেলা করতে চাই করতে পারে, তাতে আমার কোন আপত্তি থাকার কথা না। কারণ শুরুটা করেছিলাম আমি। তাই আমি চাই আামাদের এই প্রাণের বই মেলা বেঁচে থাক। যেহেতু এবার বই মেলা করা সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু আগামীতে মেলা করার করার কোন ইচ্ছা আছে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে সঞ্জয় দেবনাথ কিছুটা আশার বানী শুনালেন মনিরামপুরের মানুষের জন্য কিন্তু সেটা আশা অনুরূপ নয়। তিনি বললেন ঠাকুরের ক্রিপায় যদি ২০২১ সালে ভালো স্পন্সর ও সকলের সহযোগীতা পাই তাহলে মেলা করা সম্ভব।

কিন্তু নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মনিরামপুর শিল্পী গোষ্ঠীর এক প্রভাবশালী  সদস্য বললেন ভিন্ন কথা। তার ভাষ্য মতে ২০১৯ সালের বই মেলার বাজেটের বাইরে মন্ত্রী মহোদয়কে সংবর্ধনাসহ নানান খরচ হয়েছে। তাতে করে আয়ের চেয়ে ব্যায়ের পরিমাণ ছিল লক্ষদিক টাকার বেশি। অনেক জনপ্রতিনিধিরা সহযোগীতা করতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত কোন সাহায্য মেলেনি। তিনি আরো বলেন মেলায় অতিথি দাওয়াত নিয়ে তৈরী হয় গোলকধাঁধা প্রতিবছর রাজনৈতিক নেতাদের কারণে। যাথেকে কোনভাবে বের হওয়ার উপায় থাকে না। মনিরামপুর রাজনৈতিক বিভিন্ন গ্রুপ থাকাতে এক নেতাকে দাওয়াত করলে তার বিশেষ শুভাকাঙ্ক্ষীদেরকেউ দাওয়াত দিতে হয় ফলে বাজেটের বাইরে অতিথির সংখ্যা বেড়ে হয় ৪গুণ। অথচ সবাই সেজে বসে থাকে মেলার মঞ্চে বসার জন্য, কিন্তু কেউ সাহায্য করে না। বরং তারা উল্টো তাকিয়ে থাকে কোথায় কতো টাকা আয় হচ্ছে। যদি কোন কারণে কোন নেতাকে দাওয়াত দিতে ভুল হয় তাহলে সেই নেতা ও তার অনুসারীরা মিলে মেলা সম্পর্কে বিভিন্ন বাজে মন্তব্য ও অপপ্রচার করতে থাকে। আর বর্তমানে শিপ্পী গোষ্ঠীর সাংগঠনিক অবস্থানও আগের মতো একটিভ নেই।ফলে নানান সমস্যায় আছে মেলা কমিটি। সুতারাং এ সকল অবস্থার পরিবর্তন না হলে আর কখনও মেলা করা সম্ভব নয়।

এদিকে বই মেলার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে কথা হয় মনিরামপুরের বই মেলার অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক হিসেবে যিনি উপস্থিত থাকবেন লেখক, সাহিত্যিক ও গবেষক মোঃ শফিয়ার রহমানের সাথে। তিনি বলেন পড়ার সবচেয়ে প্রাচীন, জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য মাধ্যম হচ্ছে বই। বই জ্ঞানের আধার। পৃথিবীর সকল জ্ঞান বইয়ের পাতায় ঘুমিয়ে থাকে। কোনো পাঠক যখন বইয়ের পাতা খোলে তখন ঘুমন্ত জ্ঞান জেগে ওঠে, কথা বলতে শুরু করে পাঠকের সাথে। জ্ঞানের আলো তখন পাঠককে আলোকিত করে, পাঠকের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বিশ্ব চরাচরে। সুতারাং  মনিরামপুরের মানুষকে বই মুখি করতে বই মেলা অপরিহার্য বলে মনে করি।

কথা হয় মনিরামপুরের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ডঃ মোহম্মদ ইদ্রিস আলীর সাথে তিনি বলেন কবি জসিমউদ্দীন কোথাই বলতে হয় বই জ্ঞানের প্রতীক, বই আনন্দের প্রতীক।একখানি ভালো বই এমন একজন বন্ধু যা কখনো প্রতারণা করে না। বই এবং বই পড়া ছাড়া কোন জাতির জ্ঞানের উন্নয়ন অসম্ভব। ফলে মনিরামপুর বই মেলা হলে অন্ততপক্ষে কিছু না হলেও কিছু মানুষ কিন্তু বই ক্রয় করে জ্ঞান অর্জন করে।

কথা হয় মনিরামপুর সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ জি.এম.রবিউল ইসলাম ফারুখির সাথে তিনি বলেন মনিরামপুর বই মেলার মাধ্যমে আামাদের মনিরামপুর উপজেলার শিক্ষার্থীদের একটা মিলন মেলা ঘটে। শিক্ষার্থীরা মেলার মাধ্যমে নতুন নতুন বইয়ের সন্ধান পাই। নতুন নতুন কিছু লেখক তৈরী হয় প্রচার প্রসার বাড়ে। সবাই বই মুখী না হলেও প্রতিবছর কিন্তু কিছু নতুন শিক্ষার্থী বই মুখী হয় ফলে এটা একটা ভালো দিক। আর মেলা ছাড়া কিন্তু নতুন বই নতুন লেখক,নতুন পাঠক কোনটা সম্ভব না। 

বিভিন্ন মনিষী ও মেলা সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের ভালো খারাপ মতামতের ভিত্তিতে বলতে হয় পৃথিবীতে মানুষের তিনটি জিনিস প্রয়োজন, বই, বই এবং বই। কেননা এফ টরুপার বলেছেন, একখানি ভালো বই শ্রেষ্ঠ বন্ধু, আজ এবং আগামীকালের জন্য। বন্ধুত্ব মানবজীবনে দুঃখ ও আনন্দের কারণ দুই হতে পারে। কিন্তু একখানি ভালো বই এমন বন্ধু যা কখনো প্রতারণা করে না। আর রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ভালো বই আত্মশুদ্ধির শ্রেষ্ঠ উপায়। জ্ঞানের বাহন হিসেবে বই বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন মাধ্যম। জ্ঞানের প্রসারে বইয়ের বিস্তারের প্রয়োজনীয়তা প্রাচীনকাল থেকেই অনুভূত ছিল। তাই মনিরামপুরের মানুষকে বই মুখি করতে বই মেলা অপরিহার্য।

লেখক,
মোঃ শাহ্ জালাল।

শাহ্‌ জালাল / কামরুজ্জামান রাজু


মন্তব্য করুন

কেশবপুরে হাইসাওয়া এসডিসি প্রকল্পের উদ্যোগে মাস্ক, সাবান ও প্রচারপত্র বিতরণ

প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি 'খাবার না হয় বিষ দিন'

মনিরামপুর উপজেলা ছাত্রলীগের মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার সামগ্রী বিতরণ

বাড়ি পাচ্ছে মনিরামপুরের সেই লাঞ্ছিত বৃদ্ধরা

মনিরামপুরের এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে মামলা করবেন ব্যারিস্টার সুমন

মাস্ক না পরায় বয়স্কদের কান ধরানো সেই এসিল্যান্ড প্রত্যাহার

ব্যাচমেট হিসেবে সাইয়েমার পক্ষে সকলের কাছে ক্ষমা চাইলেন কেশবপুরের এসিল্যাণ্ড

ওয়েবসাইট হ্যাক করে বৃদ্ধকে কান ধরানো ম্যাজিস্ট্রেটকে বার্তা

কয়রায় আইসিডি এর উদ্যোগে কোরনা ভাইরাস প্রতিরোধে স্বেচ্ছাশ্রমে জীবানুনাশক স্প্রে  ও লিফলেট বিতরণ 

মনিরামপুর উপজেলা ছাত্রলীগের উদ্দ্যোগে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ

মনিরামপুর উপজেলা ওয়েবসাইটেও ছিল বৃদ্ধের কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকার ছবি

বৃদ্ধদের কানধরে দাঁড় করালেন মনিরামপুরের এসিল্যাণ্ড: চারিদিকে সমালোচনা

কালীগঞ্জে সুপারি গাছ থেকে পড়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে সিয়াম!

কারাগার থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এহসান হাবিব সুমন এর খোলা চিঠি

যেকোন সময় ঘোষণা হতে পারে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি

এসএসসি পরীক্ষাঃ বাংলা দ্বিতীয় পত্রে বেশি নম্বর সহজেই...

৫০ বছর ধরে দল করেও সুবিধা বঞ্চিত আ'লীগের প্রচার সম্পাদক নূরুল হক

যশোরের রাজগঞ্জে ৫৬ যুবকের উদ্যোগে ভাসমান সেতু র্নিমাণ

কেশবপুরের শাহীনের সেই ভ্যানটি উদ্ধার, আটক তিনজন

লালমনিরহাটে এক বিধবা মা বাইসাইকেল চালিয়ে ৪২ বছর স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন

নোংরা রাজনীতির শিকার যশোরের এমপি স্বপনের ছেলে শুভ

নারী সহকারীর সঙ্গে ডিসির অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল, সংবাদ না করার অনুরোধ

আমি চাই আমাকে দেখে আর দশটা মেয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হোক - শ্রাবন্তী অনন্যা

বিএনপি নেতা আবু বকর আবু’র জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল

আপনার কাছে জনপ্রিয় খেলা কোনটা ?

  ক্রিকেট

  ফুটবল

  ভলিবল

  কাবাডি

অফিস ঠিকানা  

আর এল পোল্ট্রি, উপজেলা রোড, কেশবপুর বাজার, যশোর।
মোবাইলঃ   ০১৭১৯২৮০৮২৭
ইমেইলঃ   info@kopotakkhonews24.com

প্রকাশক ও সম্পাদক 

মোঃ মাহাবুবুর রহমান (মাহাবুর)

মোবাইলঃ   ০১৭১৯২৮০৮২৭
ইমেইলঃ   info@kopotakkhonews24.com

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা