আজ বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭           আমাদের কথা    যোগাযোগ

শিরোনাম

  প্রতিনিধি হইতে ইচ্ছুকরা ০১৭৪৭৬০৪৮১৫ নাম্বারে যোগাযোগ করুন।  

হায়দ্রাবাদে একদিনঃ পর্ব-১


হায়দ্রাবাদে একদিনঃ পর্ব-১

প্রকাশিতঃ শনিবার, জুলাই ১১, ২০২০   পঠিতঃ 54243


এম. এ. আলিম খান:  ১১ জুলাই, ২০১৫ খুব ভোরে কলকাতার নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইন্দিগো বিমানে ভারতের সর্বশেষ রাজ্য তেলেঙ্গেলার রাজধানী হায়দ্রাবাদের উদ্দেশ্য রওনা হলাম। সকাল ৮টার দিকে হায়দ্রাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আমাদের বিমানটি অবতরণ করলো। হায়দ্রাবাদের ২৪ কিলোমিটার দক্ষিণে শামসাবাদে অবস্থিত ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর নামে নামকরণকৃত বিমানবন্দরটি। যা ২০০৮ সালের মার্চ মাসে চালু হয়। অত্যন্ত সুন্দর ও পরিপাটি একটি বিমানবন্দর। বিশ্বের ১০টি শ্রেষ্ঠ বিমানবন্দরের একটি। জীবনে প্রথম একা একটি অপরিচিত জায়গায় গেলাম। কিছুই চিনিনা জানিনা, ভাষাও বুঝি না। স্থানীয় মানুষ তেলেগু ও উর্দু ভাষায় কথা বলে। বিমানবন্দরে নেমে কিছুক্ষণ ঘুরে ঘুরে দেখলাম। দেখি অন্য যাত্রীরা কী করে। এখনকার মতো উবারের ব্যবস্থা তখন ছিল না বা থাকলেও আমি উবারের সাথে পরিচিত ছিলাম না। 

ভারতের একটি ব্যবস্থা খুব ভালো। সেটা হলো বিমানবন্দর ও রেলস্টেশনের সাথে সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রিপেইড ট্যাক্সির ব্যবস্থা রয়েছে। যেখানেই যেতে চান ভাড়া নির্ধারিত প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো যাত্রীর নিরাপত্তা। যেহেতু সরকারি ব্যবস্থাপনায় এটা পরিচালিত হচ্ছে সুতরাং এই ট্যাক্সিগুলো এবং চালক অবশ্যই এখানে নিবন্ধিত। সাহস করে নিকটবর্তী একটি শহরের কথা বলে একটি ট্যাক্সি নিলাম। রোজার সময় আল্লাহর রহমতে মুসলিম ও ভালো একজন ট্যাক্সিচালক পেলাম। আমি গাড়িতে উঠে ট্যাক্সিচালকের সাথে কথা বললাম । সে ইংরেজি বোঝে এবং কিছু জিজ্ঞেস করলে উত্তরও দিতে পারে। অল্প সময়ের মধ্যে ট্যাক্সিচালকের সাথে ভালো সম্পর্ক হয়েগেল। আমি তাকে সারাদিনের জন্য ভাড়া করলাম এবং আমাকে হায়দ্রাবাদের নামকরা সব দর্শনীয়স্থানগুলো দেখাতে  বললাম। 

হায়দ্রাবাদ সম্পর্কে একটু বলা প্রয়োজন। দক্ষিণ ভারতের বৃহত্তম শহর হায়দ্রাবাদ ও তেলেঙ্গেলা রাজ্যের রাজধানী। শুধু তেলেঙ্গেনা না; এটি অন্ধপ্রদেশেরও রাজধানী। দুইটি রাজ্যের একটি রাজধানী। ভৌগলিকভাবে হাযদ্রাবাদ দিল্লি থেকে ১,৫৬৬ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং মুম্বাইয়ের ৬৯৯ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক জন এভারেট-হিথের মতে, হায়দ্রাবাদের অর্থ “হায়দারের শহর” বা “সিংহের শহর” । “হায়দার অর্থ সিংহ আর আবাদ অর্থ শহর। খলিফা আলী ইবনে আবী তালিবকে সম্মান জানাতে নামকরণ করা হয়েছিল। যিনি যুদ্ধে সিংহের মত বীরত্বের কারণে হায়দার নামেও পরিচিত ছিলেন। ইসলামী স্থাপত্যের পন্ডিত অ্যান্ডু পিটারসনের হাযদ্রবাদকে আসলে বাগানের শহর বলা হতো।’  কুতুব শাহী রাজ বংশের পঞ্চম সুলতান মুহম্মদ কুলি কুতুবশাহের আমলে ১৫৯১ খ্রিস্টাব্দে হায়দ্রাবাদ নগরীর গোড়াপত্তন হয়েছিল। 

ট্যাক্সিচালক প্রথমে আমাকে নিয়ে গেল নেহেরু জুওলজিক্যাল পার্কে। সকাল ৯টার পরপরই পৌঁছে গেলাম চিড়িয়াখানায়। চিড়িয়াখানার প্রবেশ পথে সুন্দর মনোরম একটি গেট রয়েছে। একদিক দিয়ে ঠুকতে হয় এবং অন্যদিক দিয়ে বের হতে হয়। গেটের মাঝখানে লেখা রয়েছে ‘নেহেরু জুওলজিক্যাল পার্ক, হায়দ্রাবাদ’ তার মধ্যেখানে সিংহের ছবি। চিড়িয়াখানায় বেশ কয়েকটি বাঘ রয়েছে। একসাথে ৩টি বাঘকে মোবাইলে ক্যামেরাবন্ধি করলাম। তবে সবচেয়ে আকর্ষনীয় সাদা বাঘ। রয়েছে শিম্পাঞ্জি, সিংহ, হরিণ, গন্ডার, লজহস্তিসহ আরও অনেক প্রাণি। নেহেরু জুওলজিক্যাল পার্ক দেখে রওনা দিলাম হায়দ্রাবাদের বিখ্যাত চারমিনার দেখতে। 

হায়দ্রাবাদের মুসি নদীর পূর্বতীরে অবস্থিত অন্যতম প্রাচীন মসজিদ ও সৌধ চারমিনার। সুলতান মুহম্মদ কুলি কুতুবশাহের আমলে ১৫৯১ খ্রিস্টাব্দে চারমিনার নির্মাণ করা হয়েছিল। হায়দ্রাবাদকে বিশে^র দরবারে পরিচিতির ক্ষেত্রে চারমিনার রড় ভুমিকা পালন করে। সুলতান মুহম্মদ কুলি কুতুবশাহ মসজিদ ও মাদ্রাসা হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে চারমিনার তৈরির সিদ্ধান্ত নেন। পারস্য থেকে স্থাপতি আনা হয়। এই কারণে স্থাপনাটির ধরণ ইন্দো-ইসলামিক, যা পরস্যের স্থাপনাশিল্পের প্রমাণ বহন করে। হায়দ্রাবাদ শহরের পরিকল্পনা শহরের পরিকল্পনা করা হয়েছে চারমিনারকে কেন্দ্র করে এজন্য চারমিনারের চারপাশে হায়দ্রাবাদ শহর ছড়িয়ে আছে। চারমিনার দেখতে বর্গাকৃতির। যার প্রত্যেক দিকের দৈর্ঘ্য ২০মিটার বা প্রায় ৬৬ফুট এবং যার মধ্যে চারটি বড় বড় খিলান যা চারটি রাস্তার নির্দেশক। চারমিনারের প্রত্যেক কোনায় স্তম্ভগুলো সুন্দও কারুকার্যখচিত দ্বিস্তর বেলকুনি বিশিষ্ট মিনার। এক একটি মিনারের উচ্চতা ৪৮.৭ মিটার বা ১৬০ ফুট। প্রত্যেকটি মিনারের মাথায় মুকুটের মত সুন্দর কারুকার্যখচিত এবং মিনারের চূড়ায় উঠার জন্য ১৪৯ ধাপ সম্বলিত পেচানো সিঁড়ি রয়েছে। চারমিনার গ্রানাইড, চুনাপাথর ও মার্বেল পাথর দিয়ে তৈরি। পেচানো সিঁডি বেয়ে উপরে উঠলাম। উপর থেকে আশেপাশের ভবনগুলোতে অনেক সুন্দর দেখায়। চারমিনারের চারপাশে একটি বড় বাজার রয়েছে যা লাদ বাজার নামে পরিচিত। এই বাজারে প্রায় ১৪,০০০ দোকান রয়েছে। 

চারমিনারের পাশেই ৪০০ বছরের একটি ঐতিহ্যবাহী মসজিদ রয়েছে। মসজিদটির নাম মক্কা মসজিদ। সুলতান মুহম্মদ কুলি কুতুবশাহ মক্কা থেকে মাটি এন সেই মাটি দিয়ে ই্ট তৈরি করে এই মসজিদ নির্মাণ কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে মুঘল বাদশাহ আওরঙ্গজেব হায়দ্রাবাদ জয়ের পর এই মসজিদের নির্মাণ কাজ শেষ করেন। মসজিদটির দৈর্ঘ্য ১৮০ ফুট, প্রস্থ ২২০ফুট এবং উচ্চতা ৭৫ ফুট। এই মসজিদে একসাথে ১০, ০০০ মুসল্লী নামাজ আদায় করতে পারে। মসজিদটির প্রবেশ দরজায় মার্বেল পাথরের আবরণকৃত ‘আসাফ জহি’র মাজার রয়েছে। মসজিদটিতে শান্তির প্রতীক অসংখ্য কবুতর দেখা যায়। 

চারমিনার ও মক্কা মসজিদ দেখে রওনা হলাম সালার জং মিউজিয়াম দেখতে। এটি ভারতের তৃতীয় বৃহত্তর জাদুঘর। অনেক অমূল্য আর দুষ্প্রাপ্য জিনিষের সমাহার রয়েছে এই জাদুঘরটি। ১৯৫১ সালে নবাব মীর ইউসুফ আলী খান এই জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করেন। এই জাদুঘরে রয়েছে মুঘল সম্রাজ্ঞী নূরজাহানের ফল কাটার ছুরি. সম্রাট শাহজাহানের তরবারি ও টিপু সুলতানের হাতির দাঁতের চেয়ার। অসংখ্য দামি মণি মুক্তা ও হাতির দাঁতের তৈরি বিভিন্ন উপকরণ। জাদুঘরের অন্যতম সেরা আকর্ষণ মিউজিক্যাল ওয়াচ। সাড়ে ৩ ফুট লম্বা ও দেড় ফুট চওড়া ঘড়িটিতে প্রতি ঘন্টার ৩মিনিট আগে একটি লোক ঘড়ির মধ্যে থেকে বের হয়ে আসে এবং যে কয়টা বাড়ে ঠিক ততগুলো ঘন্টা বাড়িয়ে আবার ভিতরে চলে যায়। এটা দেখার জন্য জাদুঘরের দর্শকরা ঘন্টা বাজার আগেই ঘড়ির সামনে ভীড় করেন এবং অপেক্ষায় থাকেন কখন ঘড়ির মধ্যে থেকে মানুষ বের হয়ে ঘন্টা বাজাবে। ঘড়িতে একজন কামারকে দেখা যায় যিনি প্রতি সেকেন্ডে বিরামহীনভাবে হাতুড়ি পিটিয়ে যাচ্ছেন। চলবে-

এম. এ. আলিম খান / কামরুজ্জামান রাজু


মন্তব্য করুন

জৈন্তাপুরে সর্বদলীয় নাগরিক শোক সভা অনুষ্ঠিত

মনিরামপুর ইউএনও অফিসে আবেদনের তথ্য চেয়ে পায়নি প্রেসক্লাবের সভাপতি

কেশবপুরের পল্লীতে হয়রানির ঘটনায় থানায় অভিযোগ

আমি সৎ,দক্ষ ও সজ্জন বললেন সাবেক স্বাস্থ্য ডিজি

দেশে করোনায় মৃত্যু সাড়ে ৩ হাজার ছাড়িয়ে

নিজের গাড়ি ভেঙ্গে আ'লীগ-ছাত্রলীগের নামে মামলা করল উপজেলা চেয়ারম্যান

করোনায় আক্রান্ত রুমিন ফারহানা

শোক দিবসকে সামনে রেখে কেশবপুরে যুবলীগের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

যবিপ্রবির জিনোম সেন্টারে ১০০ জনের করোনা শনাক্ত

অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে চার বিভাগের উপর কড়া নজর অর্থ মন্ত্রালয়ের

মনিরামপুর অনলাইন ক্লাস জনপ্রিয় হয়ে উঠছে

মনিরামপুরের কৃতিসন্তান ডুমুরিয়া থানা অফিসার বিপ্লব গুরত্বর অসুস্থ

কালীগঞ্জে সুপারি গাছ থেকে পড়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে সিয়াম!

কারাগার থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এহসান হাবিব সুমন এর খোলা চিঠি

এসএসসি পরীক্ষাঃ বাংলা দ্বিতীয় পত্রে বেশি নম্বর সহজেই...

যেকোন সময় ঘোষণা হতে পারে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি

যশোরে এবার সরকারি চালসহ ঘাতক দালাল নিমূল কমিটির নেতা আটক

৫০ বছর ধরে দল করেও সুবিধা বঞ্চিত আ'লীগের প্রচার সম্পাদক নূরুল হক

যশোরের রাজগঞ্জে ৫৬ যুবকের উদ্যোগে ভাসমান সেতু র্নিমাণ

কেশবপুরের শাহীনের সেই ভ্যানটি উদ্ধার, আটক তিনজন

লালমনিরহাটে এক বিধবা মা বাইসাইকেল চালিয়ে ৪২ বছর স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন

নোংরা রাজনীতির শিকার যশোরের এমপি স্বপনের ছেলে শুভ

ব্যাচমেট হিসেবে সাইয়েমার পক্ষে সকলের কাছে ক্ষমা চাইলেন কেশবপুরের এসিল্যাণ্ড

নারী সহকারীর সঙ্গে ডিসির অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল, সংবাদ না করার অনুরোধ

আপনার কাছে জনপ্রিয় খেলা কোনটা ?

  ক্রিকেট

  ফুটবল

  ভলিবল

  কাবাডি

অফিস ঠিকানা  

আর এল পোল্ট্রি, উপজেলা রোড, কেশবপুর বাজার, যশোর।
মোবাইলঃ   ০১৭১৯২৮০৮২৭
ইমেইলঃ   info@kopotakkhonews24.com

প্রকাশক ও সম্পাদক 

মোঃ মাহাবুবুর রহমান (মাহাবুর)

মোবাইলঃ   ০১৭১৯২৮০৮২৭
ইমেইলঃ   info@kopotakkhonews24.com

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা