আজ শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৭           আমাদের কথা    যোগাযোগ

শিরোনাম

  প্রতিনিধি হইতে ইচ্ছুকরা ০১৭৪৭৬০৪৮১৫ নাম্বারে যোগাযোগ করুন।  

সুন্দরবনঃ যেখানে মেলে জীবিকার সন্ধান!


সুন্দরবনঃ যেখানে মেলে জীবিকার সন্ধান!

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, নভেম্বর ৩, ২০২০   পঠিতঃ 119637


রনি ডাকুয়া,বাগেরহাট:"সুন্দরবন" নামটা শুনলেই হৃদয়ে যেন অন্যরকমের অনুভূতির সৃষ্টি হয়।বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্যতম নিদর্শন সুন্দরবনে ঘুরতে আসার জন্য হাজার-হাজার মানুষ মুখিয়ে থাকে।কর্মব্যস্ততার মধ্যেও একটু সময় পেলেই পর্যটকদের লাইন পড়ে যায় করমজল,হিরনপয়েন্ট সহ সুন্দরবনের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে। এই সবকিছু বাদেও জীবিকার জন্য একদল জনগোষ্ঠীকে যেতে হয় সুন্দরবনে।

বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের। সংগত কারণে জীবিকার সন্ধানে তাদেরকে বিভিন্ন কাজের উপর নির্ভরশীল হতে হয়।যখন অন্য কোনো উপায় না থাকে তখন এই সুন্দরবনই একমাত্র ভরসা গ্রামীণ জনপদের।

শিশুরা হাঁটাচলা শিখে বাইরে বের হওয়ার পর থেকেই বনের নানামুখী কাজে প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করে।

এত পরিশ্রমের পরেও সুন্দরবন লাগোয়া গ্রামগুলোর বনজীবীদের কষ্ট যেন ফুরায় না। পরিবারের সবাই মিলে কঠিন সংগ্রাম করেও তিনবেলা ভাত জোটাতে না পেরে বনজীবীদের অনেকে আবার ফিরছে অন্য কাজে। কেউ এলাকায়, আবার কেউ দূরের শহরে।

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আমড়বুনিয়া গ্রাম। ওপারে সুন্দরবন, এপারে লোকালয়, মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে কম প্রশস্থের ছোট্ট নদী ভোলা। নদী পার হলেই চোখে পড়ে সুন্দরবনের লীলাভূমি। নানা রকমের গাছ,গাছে গাছে পাখির সুমধুর কলকাকলি। এছাড়া বাঘ,হরিণ,বানর প্রভৃতি তো সাধারণ ঘটনা।এই সবকিছুকে ছাপিয়ে একশ্রেণির লোক জীবিকার সন্ধানে পাড়ি জমায় সুন্দরবনে।
পুরুষেরা গাছকাটা-গোলপাতা কাটা, কাঁকড়া ধরা আর মধু আহরণে ব্যস্ত। অন্যদিকে নারীরা ব্যস্ত থাকেন চিংড়ির পোনা ধরায়।

 গ্রামের সবার মুখেই বনজীবীদের বেঁচে থাকার কষ্টের কথা শোনা যায়। বর্তমানে করোনা মহামারীতে সরকারের নানা নিষেধাজ্ঞা আর প্রাকৃতিক নানা কারণে বন এখন আর তাদের খুব বেশি জীবিকার পথ দেখাতে পারছে না।

যেসব গ্রামের ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ বাপদাদার আমল থেকে থেকে বনের কাজে জীবিকা নির্বাহ করে এসেছে তাদের অধিকাংশই বর্তমানে বেশিরভাগ সময় কর্মহীন থাকে।

ভোলা নদীর পাশে সুন্দরবন লাগোয়া গ্রাম আমড়বুনিয়া, জিউধরা, কচুবুনিয়া গ্রাম ঘুরলে বনজীবীদের জীবন সংগ্রামের নানা তথ্যচিত্র নজরে আসে।

বহু কর্মহীন মানুষকে গাছের ছায়ায়, দোকানে, রাস্তার ধারে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকতে দেখা যায়। বনের কাজ ছেড়ে অনেকে মাটিকাটা,ছাড়াও নানা কাজ করছে। তবে এতে মজুরি অনেক কম।

ভর দুপুরে জিউধরা গ্রাম থেকে আমড়বুনিয়া গ্রামের দিকে যাওয়ার সময় পথে দেখা পারভেজ তালুকদার আর রিয়াজুল চৌকিদারের সঙ্গে। পাশের কোনো এক বাড়িতে চুক্তিভিত্তিক একবেলা কাজ শেষে কাঁধে কোদাল নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন তারা।

পারভেজ তালুকদার  আর রিয়াজুল চৌকিদার বলেন, কখনো কারো বাড়িতে, কখনো চিংড়ির ঘেরে আবার কখনো বনের কাজে যান। কিন্তু এ দিয়ে সংসার চালানো মুশকিল। আবার কাজেও নেই কোনো নিশ্চয়তা। অতিকষ্টে কাজ যোগাড় করতে পারলেও মজুরি যৎসামান্য। সারাদিন কঠোর পরিশ্রম করেও চার- পাঁচশত টাকার বেশি পাওয়া যায় না।

নদীর পাশ দিয়ে হাঁটার সময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, "ভাই গাছের কথা কিছু ল্যাখেন। আমরা খালি এ জঙ্গলডার লাইগ্যা বাঁইচ্যা আছি। হেই জঙ্গল কাইটা শেষ কইরা দিচ্ছে"।  সুন্দরবনের পাশ দিয়ে বনের গাছ চোরদের  নৌকাকে দ্রুতবেগে লোকালয়ে ঢুকতেও দেখা যায়

এলাকার মানুষ জানালেন, এভাবেই দিনের বেলায় কাঠ চোরেরা বন ধ্বংস করছে। অথচ বনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের, নিরীহ মানুষদের সেখানে যেতে নানা সমস্যা। রয়েছে ডাকাতের আতঙ্ক,বাঘের ভয়!

তার ওপর বন বিভাগের অপতৎপরতাও রয়ছে। নিরীহ বনজীবীরা বনে অনুমতি নিয়ে গেলেও বনরক্ষীদের টাকা দিতে হয়। আর অনুমতি না থাকলে এ টাকার পরিমাণ বহুগুনে বেড়ে যায়।

সূত্রমতে জানা যায়,সুন্দরবনের গা ঘেঁসে জেগে থাকা এ গ্রামগুলোর মানুষের বেঁচে থাকা নির্ভর করে বনের ওপর। বনে প্রধান কাজগুলোর মধ্যে আছে মাছধরা, কাঁকড়া ধরা, গাছকাটা, গোলপাতা কাটা ও মধু আহরণ।

এ ছাড়াও বনের ভেতরে ও আশাপাশের নদীতে স্থানীয়রা চিংড়ির পোনা ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। অনেকে আবার মৌসুম ভিত্তিতে এসব কাজ করে। হয়তো বছরের তিন মাস বনে কাজ করে, বাকি সময় ফেরে অন্য কাজে।

মোরেলগঞ্জের আমড়বুনিয়া গ্রামে চোখে পড়ে বনজীবীদের বিপন্ন বসতি। বহু মানুষ ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর নির্মিত নতুন ঘরে আশ্রয় নিয়েছে। দুধারে সারি সারি ছোট ঘর। কোনোমতে জীবন ধারণ। পানির কষ্ট, খাবারের কষ্ট, চিকিৎসার কষ্ট এ মানুষগুলোর নিত্যসঙ্গী।

বনজীবীদের এসব গ্রামের অধিকাংশ ছেলেমেয়ে স্কুলে যায় না। যে বয়সে ওদের স্কুলে যাওয়ার কথা, সেই শিশুকাল থেকেই ওরা শুরু করে বনের প্রশিক্ষণ। কারণ, ওদের বাবা-মা, দাদা সবাই যে বনজীবী। ভবিষ্যতে হয়তো এ পেশাই ওদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে!

রনি ডাকুয়া / মোঃ আলাউদ্দিন


মন্তব্য করুন

মনিরামপুরের মেধাবী ছাত্র ইমনকে বাঁচাতে প্রতিবন্ধী বাবার সাহায্যের আকুতি

মনিরামপুরে যুবলীগের অফিস উদ্বোধন

মনিরামপুরে পিস্তলসহ এক যুবক আটক

কেশবপুরে মক ভোটিংয়ে সাড়া মেলেনি

তালিকা থেকে বাদ পড়ার খবরে মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

টাকার মেশিন এমপি নূর মোহাম্মদের বিকাশ নাম্বার!

কোটচাঁদপুর কালিগঞ্জ মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ১,আহত-৪

কেশবপুর পৌর নির্বাচনে শেষ মুহুর্তে বাড়ছে উত্তাপ

কেশবপুরে গলায় শাড়ি পেঁচিয়ে বৃদ্ধার আত্মহত্যা

কেশবপুরে গাঁজা ব্যবসায়ী গ্রেফতার,গাঁজা উদ্ধার

কেশবপুরে ক্ষমতাসীন দলের ৪ নেতাকে বহিষ্কার

৩০শে মার্চ ঢাকায় বিএনপি’র মহাসমাবেশ

কালীগঞ্জে সুপারি গাছ থেকে পড়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে সিয়াম!

কারাগার থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এহসান হাবিব সুমন এর খোলা চিঠি

এসএসসি পরীক্ষাঃ বাংলা দ্বিতীয় পত্রে বেশি নম্বর সহজেই...

যেকোন সময় ঘোষণা হতে পারে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি

যশোরে এবার সরকারি চালসহ ঘাতক দালাল নিমূল কমিটির নেতা আটক

৫০ বছর ধরে দল করেও সুবিধা বঞ্চিত আ'লীগের প্রচার সম্পাদক নূরুল হক

লালমনিরহাটে এক বিধবা মা বাইসাইকেল চালিয়ে ৪২ বছর স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন

কেশবপুরের শাহীনের সেই ভ্যানটি উদ্ধার, আটক তিনজন

যশোরের রাজগঞ্জে ৫৬ যুবকের উদ্যোগে ভাসমান সেতু র্নিমাণ

নোংরা রাজনীতির শিকার যশোরের এমপি স্বপনের ছেলে শুভ

নারী সহকারীর সঙ্গে ডিসির অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল, সংবাদ না করার অনুরোধ

ব্যাচমেট হিসেবে সাইয়েমার পক্ষে ক্ষমা চাইলেন কেশবপুরের এসিল্যান্ড

আমাদের নিউজ পোর্টাল আপনার কেমন লাগে ?

  খুব ভালো

  ভালো

  খুব ভালো না

  ভালো লাগে না

অফিস ঠিকানা  

আর এল পোল্ট্রি, উপজেলা রোড, কেশবপুর বাজার, যশোর।
মোবাইলঃ   ০১৭১৯২৮০৮২৭
ইমেইলঃ   info@kopotakkhonews24.com

প্রকাশক ও সম্পাদক 

মোঃ মাহাবুবুর রহমান (মাহাবুর)

মোবাইলঃ   ০১৭১৯২৮০৮২৭
ইমেইলঃ   info@kopotakkhonews24.com

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা