আজ বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬           আমাদের কথা    যোগাযোগ
Owner

শিরোনাম

  জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল কপোতাক্ষ নিউজের জন্য বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহী প্রার্থীরা ০১৭১৯২৮০৮২৭ নাম্বারে যোগাযোগ করুন।  

মানবাধিকার এখন প্রহসনের সংলাপ


মানবাধিকার এখন প্রহসনের সংলাপ

প্রকাশিতঃ শনিবার, ডিসেম্বর ১০, ২০১৬   পঠিতঃ 183708


সভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে যে অধিকারগুলো মানুষের মৌলিক অধিকার হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে তা-ই মানবাধিকার। মানুষে মানুষে শান্তি, মৈত্রী ও সৌভ্রাতৃত্বের বন্ধন গড়ে তুলতেই মানবাধিকারের মানবিক অধিকারের পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর ফ্রান্সের প্যারিসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সর্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়। এর পর ক্রমে এই ঘোষিত সার্বজনীন মানবাধকারের ব্যাপক প্রসার ঘটে। ঘোষণাপত্রের প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু করা হয় যে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নারী পুরুষ, ভাষা রাজনৈতিক বা অন্যান্য মতবাদ, জাতীয় বা সামাজিক উৎপত্তি, সম্পত্তি, জন্ম বা অন্য মর্যাদা নির্বিশেষে মৌলিক অধিকার ও স্বাধিকারে স্বত্ববান। বিংশ শতাব্দীতে ঘোষিত মানবাধিকারের ঘোষণা সমূহ একবিংশ শতাব্দীতে যেন প্রহসনের সংলাপে পরিণত হয়েছে। সারাবিশ্বে লঙ্ঘিত হচ্ছে মানবাধিকার। লঙ্ঘিত মানবাধিকার নিয়ে যখন বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি হচ্ছে তখন বাংলাদেশের মানবাধিকারের অবস্থা শুধু ঢাল তলোয়ার ঝনঝনিয়ে বাজার মতো। পৃথিবীর বহুদেশে একনায়ক ফ্যাসিবাদী, স্বৈরশাসকগণ মানবাধিকারকে হত্যা করে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছে। প্রতিবাদী মানুষকে হত্যা করছে। তখন বাংলাদেশের মানবাধিকার ক্ষমতা যেন শুধুই ক্ষমতার পায়ে লুটোপুটি খাচ্ছে। ঘোষিত মানবাধিকারের স্লোগান দিতে গিয়ে বর্তমানে পরাশক্তি ও জাতিসংঘ দ্বিমুখী নীতি গ্রহণ করছে। বৃহৎ শক্তি এবং জাতিসংঘের কার্যকারিতাহীন ভূমিকা সম্পর্কে বিশ্ববাসী আজ অবগত। জাতিসংঘ যখন পরাশক্তিগুলোর ভেটো ক্ষমতার কারণে ‘জোর যার মুল্লুক তার' নীতি প্রতিষ্ঠা করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সেই মুহূর্তে স্বাধীন বাংলাদেশের মানবাধিকারের কর্মীদের চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে আর আবেগের কিছু বাণী দিয়ে জনগণের মন জোগাচ্ছে। বাংলাদেশের সংবিধান মানবাধিকারকে খুব গুরুত্বপূর্ণ করে তুলে ধরেছে।
সেই হিসাবে সংবিধানের ৩য় অধ্যায় মানবাধিকারগুলোকে অধিকার হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশে একদিকে হচ্ছে মানবাধিকার লঙ্ঘন অন্য দিকে হাচ্ছে মৌলিক অধিকারের অপব্যবহার। মৌলিক অধিকারের ৩য় অধ্যায় অবস্থান করেও আজ দেশে জোরপূর্বক সম্পদ হরণ, নারী নির্যাতন, অ্যাসিড নিক্ষেপ, যৌতুকের বলি ঘুষ, দুর্নীতি প্রভৃতি সামাজিক ব্যাধির মতো আক্রমণ করছে জনগণকে এক সময় বলা হতো আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও প্রশাসনিক দুর্নীতির কারণে মানবাধিকার বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না, পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার কারণে নারী প্রতিনিয়ত অধিকার বঞ্চিত হয়েছে। নারী অধিকার নারীর ক্ষমতায়নের কথা ভেবে আমাদের দেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলো গড়ে উঠেছে। সে সংগঠনগুলোর দায়িত্বে রয়েছেন আমাদের দেশের সিংহভাগ নারীরা। কিন্তু বাস্তবে এই দায়িত্ব পারন করা নারীরা কতটুকু পারছে মানবিক অধিকারগুলো অধিকার বুঝিয়ে দিতে। খুব দূরে না গিয়ে আমরা গত বছর এর দিকে তাকালেই দেখতে পাব আমাদের মানবাধিকার ব্যবস্থাও এ কাজকর্মে কতটা ঘুনপোকা আক্রমণ করেছে। দেশ স্বাধীন হয়েছে ৪১ বছর চলছে। স্বাধীনতার পর থেকে যখন যে সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে তারা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য রাষ্ট্রকে পুলিশী রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। সেই সুযোগে পুলিশ শাসনের নামে শোষণ চালিয়ে নিয়েছে। তথ্য আদায় বা ইনভেস্টিগেশনের নামে আসামী হত্যা করেছে। গোপন তথ্য প্রকাশ করার কথা বলে ক্রসফায়ার করেছে। এলিট ফোর্স র‌্যাবের হাতে লিমনের গুলীবিদ্ধের ঘটনা বাংলার ১৬ কোটি মানুষের জানা। প্রতিদিন পত্রিকার পাতায় আর টিভির পর্দায় দেখেছি কিভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে। জনগণের জন্য কোন কাজ করছে না মানবাধিকার কর্মীরা। শুধু মুখে বড় বড় কথা, আর নারীর ক্ষেত্রে তো মানবাধিকারের কাজ কিছু মাত্রই নেই। লিমন এর ঘটনায় বার বার টিভির সামনে চোখের পানি ফেলেছেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান। তিনি সরাসরিই বলেছেন তাদের হাত পা বেঁধে তাদের এই আসনে বসানো হয়েছে, সত্যিই তাই হল। তিনি লিমনের জন্য শুধু চোখের পানি ছাড়া আর কিছুই দিতে পারেননি। বাংলাদেশের সংবিধানের সংগঠনগুলোর সাথে অনেক মাননীয় সুশীল সমাজের ব্যক্তিরা রয়েছেন। যারা পদমর্যাদায় সুশীল হলেও কাজের বেলায় শূন্যের কোঠায়। নারীর জন্য কাজ করার প্রত্যয় নিয়ে যে নারী নেত্রীরা ---তারা তাদের নামের পাশে ‘নারী নেত্রী' শব্দটা ব্যবহার করতে পেরেই সন্তুষ্ট।
রংপুরের এক নারীর উপর অত্যাচার-নির্যাতন, নিপীড়নের চিত্র মিডিয়ায় কে না দেখেছে। নোয়াখালীতে নারীর উপর গ্রাম্য সালিশিদের তৈরি করা আইন ও নির্যাতনের দোররা মেরে পঙ্গু করার দৃশ্য সবার দেখা। কিন্তু আমাদের নারী নেত্রীরা কি করতে পেরেছে তাদের জন্য। সভা সমাবেশে নেত্রীরা বড় বড় কথা বলেন, নিজের পদমর্যাদা বাড়াতে লোকের হাত পা ধরেন অথচ কাজের কাজ কিছুই হয় না। মানবাধিকার কর্মীরা দোষারূপ করছে তাদের অর্থহীন মূল্যহীন অবস্থাকে আর দেখাচ্ছে প্রশাসনিক ব্যবস্থার ক্ষমতায়নকে। বর্তমানে দেশে মানবাধিকার বলতে যেন কিছুই নেই। শুধু আছে তাদের পদমর্যাদার ন্যাম প্লেট, আছে বেতন ভাতা বোনাস। ভারতের মতো বিশাল দেশ এর মানবাধিকার ব্যবস্থা যখন নারী নির্যাতনের পাশে এসে তোলপাড় করে দিচ্ছে তখন বাংলাদেশের একজন চিকিৎসক তার কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ অবস্থানে থাকতে পারছে না। বাংলাদেশ মুসলিম দেশ তাও যেন শুধু কাগজে-কলমে। আজ বাংলাদেশের নারীরা পর্দার জন্য বোরকা পরলে ইবাদতের জন্য হাদীসী বই পড়লে তাদের নির্দিষ্ট দলের কর্মী নির্বাচন করে হাজতে যেতে হয় তখন মানবাধিকার কর্মীরা নিজেদের আনন্দ আর সাফল্যের বাণী শোনায়। পুরো বিশ্বে যখন মালালা নারী শিক্ষার জন্য আন্দোলন করে প্রতিবাদ করে আলোড়ন সৃষ্টি করে তখন বাংলাদেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির টাকা বৃদ্ধির জন্য প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে নিপীড়নের স্বীকার হয় নারীরা। এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ক্ষোভে ভারত যখন নববর্ষের আনন্দকে বেদনা রূপে শোক প্রকাশ করে তখন বাংলাদেশের জনগণ নিজেদের বন্দি করে নাচে গানে লাল-হলুদ হটড্রিংক্স-এ।  ক্ষমতায় থাকা সরকার পুলিশ বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে আর নিজেদের দাপটে প্রতিটি ক্ষেত্রে মানবাধিকার লংঘন করছে। সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা নেই। নেই সংবাদপত্রের স্বাধীনতা। নেই রাজনীতিতে স্বাধীনতা, ক্ষমতাসীনদের দলে থাকলে বানিয়ে দেয় মুক্তিযোদ্ধা আর বিরোধী দলে থাকলে বলে যুদ্ধাপরাধী-তাই হাজার বার মনে প্রশ্ন জেগেছে ব্যক্তিগতভাবে আমার-আমিকে? নাম মাত্র এই মানবাধিকার আমি আমার দেশের জন্য শুধুই ঢাল তলোয়ার-এর মত ঝনঝনিয়ে বাজে। এ ছাড়া আর কিছুই না।

 

রহিমা আক্তার মৌ

মোঃ সোলায়মান শিপন / সোলায়মান শিপন


মন্তব্য করুন

ইতিহাসের বড় মানবাধিকার লঙ্ঘন বঙ্গবন্ধুর খুনিদের রক্ষা করা

মহেশপুরের অবৈধ ইটভাটায় পুড়ছে শত শত মণ কাঠ

জাল বিছানো হয়েছে, কখন কে ধরা পড়ে বলা মুশকিল: কাদের

নাটোরে মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা

নাটোরের সিংড়ায় পানিতে ডুবে দুই শিশু মূত্যু

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ "জোছনা উৎসব" বরগুনায়

নাটোরে বাউয়েট ক্যাম্পাসে দরিদ্র ও শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ

রুহুল আমিন মোহাম্মদ ফারুকী এর কবিতা "উত্তরহীন প্রশ্ন"

কাল থেকে শুরু ‘বঙ্গবন্ধু বিপিএল’ লড়াই

রুম্পার মৃত্যুরহস্য উদঘাটনে এখনও অন্ধকারেই পুলিশ

যাদের নিয়ে আওয়ামী লীগ বিব্রত

সুপ্রিয় ভট্টাচার্য্য যশোরের শ্রেষ্ঠ করদাতা

কালীগঞ্জে সুপারি গাছ থেকে পড়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে সিয়াম!

কারাগার থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এহসান হাবিব সুমন এর খোলা চিঠি

যেকোন সময় ঘোষণা হতে পারে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি

এসএসসি পরীক্ষাঃ বাংলা দ্বিতীয় পত্রে বেশি নম্বর সহজেই...

৫০ বছর ধরে দল করেও সুবিধা বঞ্চিত আ'লীগের প্রচার সম্পাদক নূরুল হক

যশোরের রাজগঞ্জে ৫৬ যুবকের উদ্যোগে ভাসমান সেতু র্নিমাণ

কেশবপুরের শাহীনের সেই ভ্যানটি উদ্ধার, আটক তিনজন

নোংরা রাজনীতির শিকার যশোরের এমপি স্বপনের ছেলে শুভ

লালমনিরহাটে এক বিধবা মা বাইসাইকেল চালিয়ে ৪২ বছর স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন

নারী সহকারীর সঙ্গে ডিসির অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল, সংবাদ না করার অনুরোধ

আমি চাই আমাকে দেখে আর দশটা মেয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হোক - শ্রাবন্তী অনন্যা

বিএনপি নেতা আবু বকর আবু’র জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল

আপনার কাছে জনপ্রিয় খেলা কোনটা ?

  ক্রিকেট

  ফুটবল

  ভলিবল

  কাবাডি

অফিস ঠিকানা  

আর এল পোল্ট্রি, উপজেলা রোড, কেশবপুর বাজার, যশোর।
মোবাইলঃ   ০১৭১৯২৮০৮২৭
ইমেইলঃ   info@kopotakkhonews24.com

প্রকাশক ও সম্পাদক 

মোঃ মাহাবুবুর রহমান (মাহাবুর)

মোবাইলঃ   ০১৭১৯২৮০৮২৭
ইমেইলঃ   info@kopotakkhonews24.com

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা