আজ বুধবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২২, ৫ মাঘ ১৪২৮           আমাদের কথা    যোগাযোগ

শিরোনাম

  প্রতিনিধি হইতে ইচ্ছুকরা ০১৭৪৭৬০৪৮১৫ নাম্বারে যোগাযোগ করুন।  

লালমনিরহাটে এক বিধবা মা বাইসাইকেল চালিয়ে ৪২ বছর স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন


লালমনিরহাটে এক বিধবা মা বাইসাইকেল চালিয়ে ৪২ বছর স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন

প্রকাশিতঃ শনিবার, এপ্রিল ৮, ২০১৭   পঠিতঃ 4970322


তন্ময় আহমেদ নয়ন, লালমনিরহাট থেকেঃ সংগ্রামী নারী জহিরন বেওয়া এভাবেই বাইসাইকেল চালিযে গ্রামে গ্রামে ঘুড়ে গ্রামবাসীদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে। বয়স ৮০ বছর পেরিয়ে গেছে কিন্তু মনের উদ্যমতা, সাহসিকতা, কর্মের দক্ষতা-সক্ষমতা  কমেনি এখনো তাই এ বয়সেও বাইসাইকেল চালিয়ে প্রতিদিন সকাল থেকে বিকাল পযর্ন্ত গ্রামে গ্রামে ঘুড়ে অসুস্থ্য দরিদ্র মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছেন জহিরন বেওয়া। 

লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী গ্রাম তালুক দুলালী’র মৃত সায়েদ আলীর স্ত্রী জহিরন বেওয়া। মহান মুক্তিযুদ্ধের চার বছর আগে স্বামীর মৃত্যুতে ভেঙ্গে পড়া এই সংগ্রামী নারী তিন ছেলে আর দুই মেয়েকে নিয়ে সংসার সংগ্রামে ব্রতী হয়ে উঠেন। ৮ বছর আগে বড় ছেলে দানেশ আলী ৬৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করায় ভেঙ্গে পড়েন জহিরন বেওয়া। ছোট ছেলে তোরাব আলী (৫৯)’র সংসারে এই সংগ্রামী নারী এখনো সচল, সজাগ আর কর্মউদ্যমী হয়ে বেঁচে আছেন।

দেশ স্বাধীন হয়েছে কিন্তু সংসারে অভাব-অনটন ছিল প্রতিক্ষনের চিন্তা। সমাজের কথা উপেক্ষা করে ১৯৭৩ সালে জহিরন পরিবার পরিবল্পনার অধিন স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে ছয়মাসের প্রশিক্ষন গ্রহন করে চুক্তি ভিত্তিক মাসিক মজুরীতে কর্মে যোগ দেন। নিজ গ্রামসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে বাইসাইকেল চালিয়ে গ্রামবাসীদের স্বাস্থ্যসেবা দিতেন। ২শ থেকে ৩শ অবশেষে ৫শ টাকা মাসিক মজুরী পেয়ে ১০বছর চাকুরী করে অবসের যান জহিরন কিন্তু বাড়িতে বসে থাকতে পারেননি।

চাকুরী বাদ দিয়েছেন কিন্তু অর্জিত অভিজ্ঞতা বাদ দেননি তাই বাড়িতে বসে না থেকে আবারো গ্রামবাসীর স্বাস্হ্যসেবায় মনোযোগী জহিরন এখনো কাজ করছেন হাসিমাখা মুখে।

সংগ্রামী সেই নারী বলেন, ”আমি শুধু সাধারণ রোগ যেমন জ্বর মাথা ব্যথা বমি শারিরীক দুর্বলতাসহ অন্যন্য রোগের চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকি। চিকিৎসার জন্য আমাকে কোন অর্থ দিতে হয়না, তবে আমি বাজার মুল্যে তাদের কাছে ঔষধ বিক্রি করি এতে প্রতিদিন গড়ে ১৫০ টাকা আয় হয়,” এমনটি জানালেন জহিরন বেওয়া। “আদিতমারী উপজেলার ৩০টি গ্রামে প্রায় দুই হাজারের বেশী পরিবারের সাথে রয়েছে আমার যোগাযোগ। আমি প্রতিদিন বাইসাইকেল চালিয়ে কমপক্ষে ৭টি গ্রামের ৭০টি বাড়িতে অবস্থান করি এবং তাদের খোঁজখবর নিই,” তিনি এমনটি জানিয়ে দাবী করে বলেন গত ৫০ বছরে তিনি কোন রোগে আক্রান্ত হননি।

ভেলাবাড়ী গ্রামের হামিদুল ইসলাম (৭৫) জানালেন গত ৪৪ বছর ধরে জহিরন বেওয়াকে দেখছি বাইসাইকেল চালিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুড়ে গ্রামবাসীদের স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন। ”সাধারণ কোন অসুখ-বিসুখ হলে আমরা তার কাছেই চিকিৎসা সেবা নিই আর তিনি কখনোই আমাদের কাছে টাকা নেননি। মাঝে-মধ্যে ঔষধও বিনামুল্যে দিয়ে দেন,” তিনি জানান।

”জহিরন বেওয়া গ্রামের গরীব মানুষের ডাক্তার। অনেক গরীব মানুষ তার কাছে বিনামুল্যে ঔষধ নিয়ে থাকেন। আর বড় ধরনের অসুখ বিসুখ হলে তিনি আমাদের হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন এমনকি নিজেই হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেন,” এমনটি জানালেন তালুক দুলালী গ্রামের দিনমজুর মনসুর আলী (৪৮)।

চন্দনপাট গ্রামের জিলহাজ আলী (৫০) জানালেন, জহিরন বেওয়া নিজেকে সবসময় হাসি-খুশি রাখেন আর গ্রামবাসীকেও আনন্দ দিয়ে হাসি-খুশি রাখেন। তাই জহিরন বেওয়া গ্রামের সবার কাছে জনপ্রিয়, হয়ে উঠেছেন সবার নানী, বাংলার নানী। ”আমরা তাকে বাংলা নানী বলে সম্বোধন করি আর এতে তিনি বেশ খুশি থাকেন,” তিনি জানান।

জহিরন বেওয়ার নাতি সিদ্দিক ইসলাম (৫০) জানালেন, তিনি মাঝে মাঝে অসুস্থ্য হন কিন্তু তার দাদীকে কখনো অসুস্থ্য হতে দেখেননি। এখনো তার দাদীর সবগুলো দাঁত সচল রয়েছে, সক্ষম রয়েছে দেহ-বল আর তিনি সাধারণ সকল মানুষের মতো ভাত-রুটি খেয়ে জীবন যাপন করেন। “আমি বাবাকে হারিয়েছি কিন্তু দাদীকে ঘিরে আছি আর দাদী এখনো আমাদের পরামর্শ, সমস্যার সমাধান আর ভালোবাস সবকিছু দিয়ে আসছেন,” জানালেন জহিরন বেওয়ার নাতি সিদ্দিক ইসলাম।

জহিরন বেওয়ার ছোট ছেলে তোরাব আলী (৫৯) জানালেন, তিনি বার বার চেষ্টা করে যাচ্ছেন মাকে বাইসাইকেল চালিয়ে বাইরে যেতে না দিতে কিন্তু সফল হচ্ছেন না। “আমাদের সামান্য কিছু আবাদি জমি আছে তা দিয়ে সংসার ভালোই চলে, কোন অভাব নেই সংসারে"। “মা আমাকে বলেন প্রত্যেক মানুষকে সমাজের জন্য ভালো কিছু করতে হয়, করা উচিৎ। আমি যেটা করছি সেটা শুধু কাজ নয়, এটি সমাজের কল্যাণকর আর আমি এটি মৃত্যুর আগ পযর্ন্ত করে যাবে,” মায়ের বক্তব্যগুলো এভাবে তুলে ধরলেন তোরাব আলী। নাতি সিদ্দিক ইসলামের সাথে সংগ্রামী নারী জহিরন বেওয়ার স্বপ্ন গ্রামের মানুষের পাশে থেকে তাদের স্বাস্হ্যসেবা দিয়ে যাবেন আর শরীরে যতদিন বল থাকবে ততোদিন বাইসাইকেল চালিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুড়ে বেড়াবো।

মোঃ বিপ্লব হোসেন /


মন্তব্য করুন

কেশবপুরে সরকারি নির্দেশনা না মানায় ৪ ব্যক্তিকে জরিমানা

কেশবপুরে করোনার টিকা নিয়ে ফেরার পথে বখাটেদের মারপিটে ২০ ছাত্রী আহত

কেশবপুরে হকি প্রতিযোগীতায় গড়ভাংগা বালিকা বিদ্যালয় বিজয়ী

মনিরামপুরে ক্রিকেট টুর্নামেন্টে নাগোরঘোপ মাধ্যমিক বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন

৯০ বছর বয়সে বিয়ে করলেন প্রবীণ আইনজীবী ইসমাইল

কেশবপুরে ৬০ কৃষককে প্রশিক্ষণ

কেশবপুরে জব্দ করা জাটকা ইলিশ এতিমখানায় বিতরণ

কেশবপুরে ২৭০ ছাত্রী পেল স্যানিটেশন সামগ্রী

সাগরদাঁড়িতে আওয়ামী লীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার দাবিতে মানববন্ধন-বিক্ষোভ

নাটোর দুটি পৌরসভায় একটিতে আ.লীগের জলি অপরটিতে বিএনপি নেতা লেলিন জয়ী

মনিরামপুরে ঘরের আড়া থেকে প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

কেশবপুর প্রেসক্লাবে ক্যারাম প্রতিযোগীতায় ফুয়াদ-রাজু জুটি চ্যাম্পিয়ন

কালীগঞ্জে সুপারি গাছ থেকে পড়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে সিয়াম!

কারাগার থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এহসান হাবিব সুমন এর খোলা চিঠি

এসএসসি পরীক্ষাঃ বাংলা দ্বিতীয় পত্রে বেশি নম্বর সহজেই...

যেকোন সময় ঘোষণা হতে পারে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি

যশোরে এবার সরকারি চালসহ ঘাতক দালাল নিমূল কমিটির নেতা আটক

লালমনিরহাটে এক বিধবা মা বাইসাইকেল চালিয়ে ৪২ বছর স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন

৫০ বছর ধরে দল করেও সুবিধা বঞ্চিত আ'লীগের প্রচার সম্পাদক নূরুল হক

নোংরা রাজনীতির শিকার যশোরের এমপি স্বপনের ছেলে শুভ

যশোরের রাজগঞ্জে ৫৬ যুবকের উদ্যোগে ভাসমান সেতু র্নিমাণ

কেশবপুরের শাহীনের সেই ভ্যানটি উদ্ধার, আটক তিনজন

নারী সহকারীর সঙ্গে ডিসির অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল, সংবাদ না করার অনুরোধ

ব্যাচমেট হিসেবে সাইয়েমার পক্ষে ক্ষমা চাইলেন কেশবপুরের এসিল্যান্ড

আমাদের নিউজ পোর্টাল আপনার কেমন লাগে ?

  খুব ভালো

  ভালো

  খুব ভালো না

  ভালো লাগে না

অফিস ঠিকানা  

আর এল পোল্ট্রি, উপজেলা রোড, কেশবপুর বাজার, যশোর।
মোবাইলঃ   ০১৭১৯২৮০৮২৭
ইমেইলঃ   info@kopotakkhonews24.com

প্রকাশক ও সম্পাদক 

মোঃ মাহাবুবুর রহমান (মাহাবুর)

মোবাইলঃ   ০১৭১৯২৮০৮২৭
ইমেইলঃ   info@kopotakkhonews24.com

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা