আজ রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮           আমাদের কথা    যোগাযোগ

শিরোনাম

  প্রতিনিধি হইতে ইচ্ছুকরা ০১৭৪৭৬০৪৮১৫ নাম্বারে যোগাযোগ করুন।  

কেশবপুরে এক লাফে হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ল ৩৩ গুণ: অসন্তোষ পৌরবাসী


কেশবপুরে এক লাফে হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ল ৩৩ গুণ: অসন্তোষ পৌরবাসী

প্রকাশিতঃ শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২১   পঠিতঃ 95445


কামরুজ্জামান রাজু, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুর পৌরসভার মধুসড়কের বাসিন্দা মোতাহার হোসেন। এত দিন তাঁকে বাৎসরিক গৃহকর (হোল্ডিং ট্যাক্স) পরিশোধ করতে হতো ৫১০ টাকা। কিন্তু সম্প্রতি তাঁর সেই কর সাড়ে ৩৩ গুণ বাড়িয়ে ১৭ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছেন পৌর কর্তৃপক্ষ।

অপরদিকে, আলতাপোল ওয়ার্ডের শেখ শাহীনুর ইসলামের ১০৫ টাকা থেকে ১১ গুণ বাড়িয়ে কর ধার্য করা হয়েছে ১ হাজার ২০০ টাকা। শুধু মোতাহার হোসেন বা শাহীনুর ইসলাম নন, এমন সমস্যা পুরো পৌরবাসীর।

ইতিমধ্যে নতুন ধার্য করা গৃহকর পরিশোধের নোটিশ পেয়েছেন ৫ হাজার ঘরের মালিক। তাঁদের মধ্যে পৌরসভায় আপত্তি ফরম জমা দিয়েছেন ৪ হাজার ৭০০ জন। প্রতিদিনই একের পর এক জমা পড়ছে আপত্তি ফরম। বর্তমানে পৌরসভায় করের জন্য তালিকাভুক্ত ঘরের সংখ্যা রয়েছে ৬ হাজার ৪৯৪টি। বাকি ঘরের মালিকদের কাছেও নোটিশ পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছে পৌর কর্তৃপক্ষ। নোটিশে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ২০২০–২১ অর্থবছর পর্যন্ত বকেয়া পরিশোধের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে পৌরসভাজুড়ে।

পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, নিয়ম মেনে ৫ বছর পর পর গৃহকর বাড়ানো হয়ে থাকে। কর নির্ধারণ তালিকা পুনর্বিবেচনার জন্য আপত্তির আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। আপত্তির বিষয়ে পৌরসভায় শুনানির মাধ্যমে কর কমানো হতে পারে। আপত্তি ফরম জমা নেওয়ার শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। এ জন্য শুনানির দিনও ধার্য করা যায়নি।

জানা গেছে, কেশবপুর পৌরসভা ১৯৯৮ সালের ১৫ ডিসেম্বর গঠিত হয়। পৌরসভাটি ‘ক’ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছে। বর্তমানে পৌরসভার আয়তন ১১ দশমিক ৮৭ বর্গ কিলোমিটার। জনসংখ্যা ৪৬ হাজার ১৬৯ জন। পৌরসভায় করের তালিকাভুক্ত ঘরের সংখ্যা ৬ হাজার ৪৯৪টি। প্রতিনিয়ত এই সংখ্যা বাড়ছে। ২০২০-২১ অর্থ বছরে গৃহকরের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৮ লাখ ৩৬ হাজার ৪০৮ টাকা। আদায় হয়েছে ৬০ লাখ ৪২ হাজার ৫১৩ টাকা। আদায়ের হার ৮৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ইতিমধ্যে পৌরকর পুনর্নির্ধারণ সম্পর্কে অবগতির (ফরম-চ) নোটিশ দেওয়া শুরু হয়েছে। ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাড়া অন্য ওয়ার্ডে নোটিশ দেওয়া অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫ হাজার ব্যক্তিকে গৃহকরের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশ জারির ৩০ দিনের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ করে পৌরসভায় ২০ টাকা দিয়ে ‘ছ’ ফরমে আপত্তি দেওয়া যাবে।

পৌরসভার ৫ নম্বর আলতাপোল ওয়ার্ডের বাসিন্দা শেখ শাহীনুর ইসলাম বলেন, ‘আগে আমার গৃহকর ছিল ১০৫ টাকা। সেটি বাড়িয়ে ১ হাজার ২০০ টাকা করা হয়েছে। প্রায় সাড়ে ১১ গুণ কর বেড়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এ পৌরসভার মধ্যে মাছের ঘের ও কৃষিজমি দুই তৃতীয়াংশ। করোনাকালে পরিবার নিয়ে জীবন চালাতে গিয়ে মানুষ ধারদেনায় জড়িয়ে পড়েছি। এর মধ্যে কর বাড়ানো মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা এর মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

৩ নম্বর সাবদিয়া ওয়ার্ডের বাসিন্দা মুজিবর রহমান জানান, গত পাঁচ বছরে তাঁর ঘরের পরিধি বাড়েনি। এরপরও তাঁর কর সাড়ে ১৩ গুণ বাড়ানো হয়েছে। তিনি আপত্তির ফরম জমা দিয়েছেন। সেখানেও আগের ১ টাকার ফরম পৌরসভা নিচ্ছে ২০ টাকায়।

৪ নম্বর আলতাপোল ওয়ার্ডের মধুসড়কের মোতাহার হোসেন বলেন, ‘আমার ৫১০ টাকার কর সাড়ে ৩৩ গুণ বাড়িয়ে ১৭ হাজার টাকা করা হয়েছে। বলা হচ্ছে আপত্তি শুনানিতে কমিয়ে দেওয়া হবে। কমালে কত গুণ কমাবেন সেইটা দেখার বিষয়।’

পৌরসভার সচিব মোশারফ হোসেন বলেন, ‘কোনো ঘরের ১০ মাসের আনুমানিক মোট ভাড়ার ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত কর হিসেবে ধার্য করা যায়। নিয়ম মেনেই কর আরোপ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আইনের বরখেলাপ কিংবা গ্রাহকদের ওপর জুলুম করা হবে না। ওয়ার্ড পর্যায়ে সভা ও আপত্তি শুনানির মাধ্যমে সহনশীল পর্যায়ে কর নির্ধারণ চূড়ান্ত করা হবে।’

মোশারফ হোসেন আরও বলেন, ‘পাঁচ বছর পর পর গৃহকর বাড়ানো হয়। আগে যেসব টিনের ঘর ছিল, বর্তমানে সেখানে অনেকে পাকা ঘর করেছেন। তাঁদের ক্ষেত্রে কর বেশি বেড়েছে। যাদের অবকাঠামোগত পরিবর্তন হয়নি, তাঁদের ক্ষেত্রে কর তেমন বাড়েনি।’

কেশবপুর পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত ১৫ বছরে তিনবার কর বাড়ানোর কথা ছিল। কিন্তু বাড়ানো হয় দুবার। ফলে এখন নিয়ম মানতে গিয়ে কর বেশি মনে হচ্ছে।’

মেয়র রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আপত্তি শুনানির পর কর যথা সম্ভব কমিয়ে দেওয়া হবে। পৌরসভা চালাতে হলে কর বাড়াতেই হয়। এবার বাড়ানো হলে আগামী পাঁচ বছর আর নতুন করে কর বাড়ানোর সুযোগ থাকবে না।’

কেশবপুর নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবুবকর সিদ্দিকী বলেন, ‘পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ২৭ শতাংশ পর্যন্ত কর বাড়াতে পারেন। তার মানে এই নয় যে,২৭ শতাংশই কর বাড়াতে হবে। আয় এবং গত দুই বছর ধরে চলমান করোনা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে ৫-৭ শতাংশের মধ্যে গৃহকর বাড়ানো উচিত।’

কপোতাক্ষ এডমিন / কপোতাক্ষ এডমিন


মন্তব্য করুন

যশোরের শার্শায় দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১২

৫ জানুয়ারি খুলনা বিভাগের ৭১ ইউপিতে ভোট

প্রথমবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল

রাত পোহালেই মনিরামপুরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন

পিচ কমিটির সদস্য আখ্যা দিয়ে অপপ্রচার করায় আওয়ামী লীগ নেতার সংবাদ সম্মেলন

কেশবপুরে ধীরাজ ভট্টাচার্যের স্মরণানুষ্ঠান

কেশবপুরে ভোটের তারিখ ঘোষণায় বইছে নির্বাচনী আমেজ

নিরাপদ সড়কসহ ৯ দফা দাবিতে আজ ফের রাস্তায় শিক্ষার্থীরা

সহিংসতার আশংকার মাঝে আগামীকাল তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচন

মাথা নত করার জন্য খালেদা জিয়ার জন্ম হয়নি: গয়েশ্বর

পঞ্চম ধাপে যশোরের যে ২৪ ইউপিতে ভোট ৫ জানুয়ারি

প্রতি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৫ জনেরও বেশি

কালীগঞ্জে সুপারি গাছ থেকে পড়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে সিয়াম!

কারাগার থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এহসান হাবিব সুমন এর খোলা চিঠি

এসএসসি পরীক্ষাঃ বাংলা দ্বিতীয় পত্রে বেশি নম্বর সহজেই...

যেকোন সময় ঘোষণা হতে পারে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি

যশোরে এবার সরকারি চালসহ ঘাতক দালাল নিমূল কমিটির নেতা আটক

লালমনিরহাটে এক বিধবা মা বাইসাইকেল চালিয়ে ৪২ বছর স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন

৫০ বছর ধরে দল করেও সুবিধা বঞ্চিত আ'লীগের প্রচার সম্পাদক নূরুল হক

নোংরা রাজনীতির শিকার যশোরের এমপি স্বপনের ছেলে শুভ

যশোরের রাজগঞ্জে ৫৬ যুবকের উদ্যোগে ভাসমান সেতু র্নিমাণ

কেশবপুরের শাহীনের সেই ভ্যানটি উদ্ধার, আটক তিনজন

নারী সহকারীর সঙ্গে ডিসির অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল, সংবাদ না করার অনুরোধ

ব্যাচমেট হিসেবে সাইয়েমার পক্ষে ক্ষমা চাইলেন কেশবপুরের এসিল্যান্ড

আমাদের নিউজ পোর্টাল আপনার কেমন লাগে ?

  খুব ভালো

  ভালো

  খুব ভালো না

  ভালো লাগে না

অফিস ঠিকানা  

আর এল পোল্ট্রি, উপজেলা রোড, কেশবপুর বাজার, যশোর।
মোবাইলঃ   ০১৭১৯২৮০৮২৭
ইমেইলঃ   info@kopotakkhonews24.com

প্রকাশক ও সম্পাদক 

মোঃ মাহাবুবুর রহমান (মাহাবুর)

মোবাইলঃ   ০১৭১৯২৮০৮২৭
ইমেইলঃ   info@kopotakkhonews24.com

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা